ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির নেতাকর্মী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। শনিবার সন্ধ্যায় জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে এনসিপির নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশের পর দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান পাটওয়ারী।
বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদরাসার ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের গভীর সম্পর্ক ও শ্রদ্ধা রয়েছে। জুলাই আন্দোলনের সময়ও তারা একসঙ্গে রাজপথে ছিলেন। তাই সাম্প্রতিক ঘটনাকে বড় কোনো বিরোধ হিসেবে না দেখে নিজেদের মধ্যে তৈরি হওয়া ভুল বোঝাবুঝি হিসেবেই দেখছেন তারা।
পাটওয়ারী বলেন, মাদরাসার ওস্তাদরা তাদের তালেব বা ছাত্র হিসেবে মনে করেন। অনেক আলেমই বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন। তার ভাষায়, দুঃখ প্রকাশ করলে কেউ ছোট হয় না। তাই তারা মাদরাসায় গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ওস্তাদদের দোয়া নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে সংসদে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর দেওয়া বক্তব্যের বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, কওমি ছাত্রদের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, হাসনাত আব্দুল্লাহ যেন তাঁর বক্তব্যের বিষয়ে সঠিক তথ্য আবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তারা রাজপথে আন্দোলন করেছেন এবং তাদের সঙ্গে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। সে কারণে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য আলেমরা তাদের বলেছেন। পরে হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও জানান পাটওয়ারী।
বাইরের বিভিন্ন মহলের প্রতিক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, অনেকে বাইরে থেকে বিষয়টি নিয়ে উল্লাস করছেন। কিন্তু তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, এটি তাদের নিজেদের ঘরের সমস্যা। ইতোমধ্যে এর সমাধান হয়েছে এবং ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটেছে।
এ সময় সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তার অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবসময় ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করেছেন’ এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াননি। তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচারও করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রদের সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে পাটওয়ারী বলেন, ঘটনার মূল বিষয় ছিল মাদরাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
শনিবারের বৈঠকে মাদরাসার পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া ইউনুছিয়ার মুহতামিম মুফতি মোবারক উল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা।
বৈঠকের পর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা আলোচনার মাধ্যমে মিটে গেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সমঝোতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
