সংগীত, কবিতা, গান ও নাটকের মাধ্যমে এমন একটি গণমুখী ও সম্প্রীতিপূর্ণ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান সরকার, যা মানুষের মনে শান্তি দেবে এবং সমাজে বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য তৈরি করবে। এমন মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
সোমবার, ৩১ আগস্ট সকালে রাজবাড়ী শহরের আজাদী ময়দানে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের মনে শান্তি দেওয়া সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীও কোনো ধরনের ভেদাভেদ না রাখার কথা বলেছেন। তাই ধর্ম, সম্প্রদায় বা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা যাবে না।
তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে মিলেমিশে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি করাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম আরও বলেন, সংগীত, কবিতা, গান ও নাটক মানুষের প্রাণের খোরাক। এসব সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ড মানুষের চিন্তা ও অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। তাই সংস্কৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রে সুস্থ, ইতিবাচক ও মানুষের কল্যাণমুখী সৃষ্টিকে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বলেন, তারা এমন একটি সাবলীল ও গণমুখী সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান, যা সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে এবং একই সঙ্গে সবার মনে শান্তি ও স্বস্তি এনে দেবে।
জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আজাদী ময়দানে গিয়ে শেষ হয়।
পরে আজাদী ময়দানে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মঞ্জুর মোর্শেদসহ রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সংস্কৃতিকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানুষের মানসিক শান্তি প্রতিষ্ঠার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রত্যয়ের কথাই উঠে এসেছে।
