BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা, শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে শঙ্কা

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি:সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমনক্ষেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগের মুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমনক্ষেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল। অনেক জমিতে ভালো শিষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও সোনালি আভা ফুটে উঠেছে। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তারা। তবে ধান কাটার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাদের উদ্বেগ কাটছে না।

কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও বেড়ে যেতে পারে।

কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তারা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি dপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে।

ADS Payra UP Election

বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, "গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো ছিল। কিন্তু শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণের কারণে খেতের ক্ষতি হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি। এখন ধানের অবস্থা ভালো এবং ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়।"

একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, "গত বছর প্রথম দিকে খেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবারও ধানের অবস্থা বেশ ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।"

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন বলেন, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। ওযৗক্তিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিকভাবে কৃষকদের পাশে রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, "কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।"

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »