BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

দুই হাত নেই, মুখে কলম ধরে দাখিলে পাস রিয়াদ-স্বপ্ন আদর্শ শিক্ষক হওয়ার!

দুই হাত নেই, তবুও থেমে যায়নি স্বপ্ন। হাতের বদলে মুখে কলম ধরে লিখেই ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বালিচাঁদ গ্রামের রিয়াদ হোসেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতাকে জয় করে তার এই সাফল্য এখন হয়ে উঠেছে অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

রিয়াদ হোসেন বালিচাঁদ গ্রামের মো. আইনাল হোসেনের ছেলে। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠতে হয়েছে তাকে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে কখনোই নিজের স্বপ্নের পথে বাধা হতে দেননি রিয়াদ।

হাতের পরিবর্তে মুখে কলম ধরে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলেন তিনি। প্রতিদিনের পড়াশোনা থেকে শুরু করে পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা—সবকিছুই করেছেন মুখে কলম ধরে। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের ফল হিসেবে এবার দাখিল পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

রিয়াদের সহপাঠীরা জানায়, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তার আগ্রহ ছিল সবসময়ই প্রবল। প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। লেখাপড়া নিয়ে তার রয়েছে বড় স্বপ্ন।

ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে একজন আদর্শ শিক্ষক হতে চান রিয়াদ। তবে শুধু নিজের প্রতিষ্ঠিত হওয়ার মধ্যেই তার স্বপ্ন সীমাবদ্ধ নয়। নিজের মতো শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি। পাশাপাশি সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে তার।

রিয়াদের এমন সাফল্যে গর্বিত তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। বালিচাঁদ দারুল দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নুরুল ইসলাম বলেন, রিয়াদ শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়ায় অত্যন্ত মনোযোগী। মুখে কলম ধরে লিখেই সে এবারের দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ভবিষ্যতে সে যেন নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে, সে জন্য তার সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করেন তিনি।

নিয়ামতপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মুর্শিদা খাতুনও রিয়াদের সাফল্যের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মুখে লিখে দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে রিয়াদ একজন আদর্শ শিক্ষক হয়ে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে—এমন প্রত্যাশাও তাদের।

রিয়াদের গল্প শুধু একটি পরীক্ষায় পাস করার গল্প নয়। এটি প্রমাণ করে, শরীরের কোনো সীমাবদ্ধতা মানুষের স্বপ্নকে থামিয়ে দিতে পারে না। প্রবল ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে প্রতিকূলতাকেও জয় করে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।

দুই হাত না থাকলেও মুখে কলম ধরে নিজের ভবিষ্যৎ লিখে চলেছে রিয়াদ। তার এই সাফল্য হয়তো আরও অনেক প্রতিকূলতার মুখে থাকা শিক্ষার্থীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জোগাবে।

Pearl IT
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
কন্টেন্ট পাবলিশিং
এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »