BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

বিজয়কে ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখতে চায় টিভিকে, জোটে শুরু টানাপোড়েন!

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও অভিনেতা থালাপতি বিজয়কে এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় তার দল তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম—টিভিকে। দলটির কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে জাতীয় রাজনীতিতে বিজয়কে সামনে আনার দাবি ও ‘বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী’ স্লোগান ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের ক্ষমতাসীন জোটের রাজনীতি। এরই মধ্যে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এসেছে কড়া হুঁশিয়ারি—২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে টিভিকে রাহুল গান্ধীকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সমর্থন না করলে জোট সরকারের দুই কংগ্রেস মন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।

রাজনীতিতে আসার মাত্র দুই বছর পরই তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর, যিনি ভক্তদের কাছে থালাপতি বিজয় নামে পরিচিত। তার দল টিভিকে-র নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই তাকে ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি টিভিকে-র কয়েকজন নেতা প্রকাশ্যে বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরতে শুরু করেছেন। দলটির নেতা আধার অর্জুন ও শরৎকুমারসহ কয়েকজনের বক্তব্যে এই দাবি জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ‘বিজয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী’ লেখা পোস্টারও দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির। 

বিষয়টি নিয়ে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এবার সরাসরি অবস্থান জানানো হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের পর্যটনমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা রাজেশ কুমার বলেছেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাহুল গান্ধীই তাদের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিভিকে যদি রাহুল গান্ধীকে সমর্থন না করে, তাহলে কংগ্রেসের দুই মন্ত্রী তাদের পদে থাকবেন না। তার এই মন্তব্যকে ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকে বিজয়কে নিয়ে ওঠা দাবির বিরুদ্ধে কংগ্রেসের কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তামিলনাড়ুর ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, টিভিকে ১০৭টি আসন পেয়েছে। পরে কংগ্রেসের পাঁচ বিধায়ক, ভিসিকে, আইইউএমএলসহ অন্যান্য মিত্রদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠিত হয়।

এ ছাড়া কংগ্রেসের দুই বিধায়ককে মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে। ফলে কংগ্রেসের সমর্থন নিয়ে কোনো বিরোধ তৈরি হলে সরকারের স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিজয়কে জাতীয় রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরার দাবি জোটের জন্য স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে।

এদিকে বিজয়ের আরেক মিত্র ও এমডিএমকে প্রধান ভাইকো রাহুল গান্ধীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার বক্তব্য, জাতীয় পর্যায়ে ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বে কংগ্রেস থাকায় প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে রাহুল গান্ধী ছাড়া অন্য কাউকে ভাবার সুযোগ নেই।

একই সঙ্গে জোটের মন্ত্রী ও নেতাদের রাজনৈতিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে প্রকাশ্যে বিতর্কিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিজয়কে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করার দাবি নিয়ে এখন পর্যন্ত টিভিকে-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো অবস্থান জানানো হয়নি। খোদ মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ও এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন।

ফলে প্রশ্ন উঠছে—বিজয়কে ঘিরে ‘প্রধানমন্ত্রী’ স্লোগান কি শুধু দলের কয়েকজন নেতার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, নাকি টিভিকে ভবিষ্যতে তাকে জাতীয় রাজনীতির ময়দানে তুলে ধরার পরিকল্পনা করছে?

এই প্রশ্নের উত্তর আপাতত মেলেনি। তবে বিজয়কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর দাবির জেরে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন জোটে যে নতুন রাজনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »