শিশু নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বডিবিল্ডার শাহজালাল রুমি। তবে এসব হুমকিতে দমে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘ভয় আমার অভিধানে নেই! আমাকে হুমকি দিয়ে দমিয়ে রাখার স্বপ্ন দেখো না। মনে রেখো, আমি বাংলাদেশ।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এসব কথা লেখেন রুমি। এর আগে প্রায় ছয় মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চাইতে তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
রুমি দাবি করেন, সকাল থেকে তাকে ধারাবাহিকভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে কোনোভাবেই মামলা তুলে নেবেন না বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষককে চড় মারার বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে রুমি বলেন, তিনি কোনো আলেম বা শিক্ষককে অপমান করেননি; বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির আচরণের প্রতিবাদ জানাতেই এমনটি করেছেন। তার দাবি, ওই শিক্ষক শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণের কথা স্বীকার করেছিলেন এবং পরে শিশুটির নানার বাড়িতে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে এসব বক্তব্য রুমির অভিযোগ ও দাবি হিসেবে এসেছে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে রুমি বলেন, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির আড়ালে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষার চেষ্টা চলছে। নিজেকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রকৃত ও ভালো আলেমদের প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে। তবে কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে পুরো আলেম সমাজের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে গালিগালাজেরও প্রতিবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অভিযুক্ত শিক্ষক যাতে জামিন না পান, সে জন্য কাজ করার কথা বলেন। ভিডিওর শেষ দিকে দেশবাসীর উদ্দেশে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রুমি বলেন, ‘আমাকে হারায়ে যাইতে দিয়েন না।’
গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। পরে শাহজালাল রুমি তাকে চড় মারেন এবং উপস্থিত জনতা ওই শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।
