যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। গত শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যার দিকে মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আজ রবিবার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আনসার ও ভিডিপি সূত্রে জানা গেছে, ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাদের আলীর ছেলে প্রবাসী মো. হাসান আলীর বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই বেআইনি আয়োজনের খবর পেয়ে ১৫ নম্বর কুলটিয়া ইউনিয়ন দলনেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন আনসার-ভিডিপি সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা বাল্যবিয়ের আইনি পরিণতিসহ অল্প বয়সে বিয়ের কারণে কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত বোঝান। তাদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষই বাল্যবিয়ের আইনগত ঝুঁকি অনুধাবন করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হয়।
পরবর্তীতে মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো অবস্থাতেই বিয়ে দেওয়া হবে না মর্মে মুচলেকা ও লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী স্কুলছাত্রী বাল্যবিয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হলে তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে তাদের কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দেশব্যাপী প্রশংসা অর্জন করছে।
