কুমিল্লায় নিহত স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করে তিনি পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকায় অপ্রতিমদের বাসায় যান এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। সেখানে থাকা তরিকুল ইসলামের মোবাইল ফোনে কল করে অপ্রতিমের বাবার সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
প্রায় ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ফোনালাপে নাহিদ ইসলাম অপ্রতিমের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে অপ্রতিমের মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে সালাম জানাতে তাঁর বাবাকে অনুরোধ করেন।
ফোনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আপনাদের জন্য আমরা খুবই শোকাহত। ম্যাডামকে আমার সালাম জানাবেন।’
জবাবে অপ্রতিমের বাবা জানান, ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। গত চার দিন ধরে তিনি কোনো খাবার খেতে পারছেন না এবং স্যালাইন চলছে।
এ সময় অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার দাবি করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁরা পরিবারের পাশে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এটুকুই তো আমাদের সক্ষমতা। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া রাখবেন। আর কোনো বাবা-মায়ের সঙ্গে যেন এ ধরনের ঘটনা না হয়। এটা খুব মর্মান্তিক একটা বিষয়। ইনশাআল্লাহ আমি একদিন দেখা করব আপনাদের সঙ্গে।’

অপ্রতিমের বাবা অভিভাবক হিসেবে ঘটনার যথাযথ বিচার প্রত্যাশা করেন। জবাবে নাহিদ ইসলাম জানান, তাঁদের প্রতিনিধিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবেন। যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতা দরকার হলে তাঁদের জানাতেও অনুরোধ করেন তিনি।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করে শোক ও সমবেদনা জানিয়েছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সী অপ্রতিম। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান এবং কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি অপ্রতিম। পরে তাঁর বাবা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন।
পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাশে সানন্দা গ্রামের একটি ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়ে তাদের শনাক্ত ও আটক করা হয়। পরে অপ্রতিমের বাবার করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
