BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

কক্সবাজারে রিসোর্টে ভয়াবহ আগুন, স্ত্রীসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় আশিকুল!

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে একটি রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রীসহ পরিবারের ছয় সদস্যকে হারানোর শঙ্কায় ভেঙে পড়েছেন আশিকুল ইসলাম। আনন্দঘন ভ্রমণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফেরার আগেই আগুন কেড়ে নিয়েছে তাদের আনন্দ। আগুন থেকে প্রাণে বাঁচতে জানালা ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারলেও স্ত্রীকে আর সঙ্গে আনতে পারেননি আশিকুল। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে বসে তাঁর আকুতি, ‘আর ১০টা মিনিট সময় পেলে আমার স্ত্রীও নিচে নেমে আসতে পারত।’

গত বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে আসেন আশিকুল ইসলাম। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ওঠেন উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক সমুদ্রসৈকত এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে’। শনিবার তাঁদের ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তবে ফেরার আগেই শনিবার সকালে রিসোর্টটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে পরিবারের ছয় সদস্য নিখোঁজ হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে আশিকুলের।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আশিকুল জানান, রিসোর্টে আগুন দেখতে পেয়ে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ডেকে তোলেন। এরপর তিনি পাশের কক্ষে থাকা অন্য স্বজনদের ডাকতে যান। এর মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে আশিকুল একটি জানালা ভেঙে সেখান দিয়ে লাফ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু তাঁর স্ত্রী আর বেরিয়ে আসতে পারেননি। এরপর থেকেই পরিবারের অন্য সদস্যদের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে আশিকুলের এক শ্যালিকার স্বামী চুয়াডাঙ্গায় চলে যাওয়ায় অগ্নিকাণ্ডের সময় রিসোর্টে তাঁদের পরিবারের মোট নয়জন সদস্য অবস্থান করছিলেন। তাঁদের মধ্যে আশিকুলের মামা-শ্বশুর মাসুদ ও তাঁর স্ত্রী মিলা আগুনে দগ্ধ ও আহত হন। পরে তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকেরা তাঁদের ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন।

আশিকুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের যে ছয় সদস্যের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, তাঁরা হলেন তাঁর স্ত্রী ইসরাত জাহান মালিহা, শ্যালিকা লায়লা জাহান নাবিলা, মিলিতা মেহজাবিন আলভি, ফারিহা কবির এবং তাঁদের স্বজন পাঁচ বছর বয়সী শিশু ফায়িজান আহমদ ও নাফিস তেহামি জেরিফ। তাঁদের পরিণতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

এদিকে শনিবার দুপুর ২টার দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আ. মান্নান সদর হাসপাতালে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে আহত ব্যক্তিদের খোঁজখবর নেন। এ সময় আশিকুল তাঁর পরিবারের নিখোঁজ সদস্যদের পরিচয় জেলা প্রশাসককে জানান।

জেলা প্রশাসক জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় সংগ্রহ করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বজনদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে সেগুলো মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইনানীর টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় নিখোঁজ ছয়জনের মধ্যে কেউ রয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

একটি আনন্দময় পারিবারিক ভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে ভয়াবহ দুঃস্বপ্নে। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় এখন হাসপাতালের মর্গের সামনে স্বজনদের আহাজারি। আর আশিকুলের কণ্ঠে বারবার ফিরে আসছে সেই আক্ষেপ—আর কয়েক মিনিট সময় পেলেই হয়তো স্ত্রীকে বাঁচানো যেত।

Pearl IT
✔ ওয়েব ডিজাইন
✔ গ্রাফিক্স ডিজাইন
✔ কন্টেন্ট পাবলিশিং
✔ এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »