বগুড়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হত্যাচেষ্টা মামলাকে পুঁজি করে এক চিকিৎসকের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে মামলার বাদী ও ছাত্রদল নেতা আরাফ বিন রহমান নূরের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরাফ বিন রহমান নূর বগুড়া শহরের নাটাইপাড়া এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে এবং তিনি বগুড়া শহর ছাত্রদলের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে বগুড়া শহর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম রাঙ্গা ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান যৌথ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আরাফকে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন আরাফ বিন রহমান নূর। ওই মামলার ৬০ নম্বর আসামি করা হয় সারিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ফাহমিদুল হাসান পিয়াসকে। অভিযোগ উঠেছে, মামলার ভয় দেখিয়ে ও পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দিয়ে আরাফ দীর্ঘদিন ধরে ওই চিকিৎসকের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ডা. ফাহমিদুল হাসান পিয়াস জানান, বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে তার কাছে আকার-ইঙ্গিতে অর্থ দাবি করা হচ্ছিল। সর্বশেষ গত রোববার (২১ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার দিকে আরাফ ৪-৫ জন সহযোগী নিয়ে সারিয়াকান্দিতে তার ব্যক্তিগত চেম্বারে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়ার শর্তে সরাসরি ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানোর হুমকি দেওয়া হয়।
ডা. পিয়াস টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, “মামলার এজাহারে উল্লিখিত ঘটনার তারিখ (৩ আগস্ট ২০২৪) আমি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ছিলাম। আমি একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারি বিভিন্ন প্রোগ্রামে আমার উপস্থিতি থাকা স্বাভাবিক, সেই ছবি ব্যবহার করে আমাকে ফ্যাসিস্টের দোসর সাজানোর চেষ্টা করছে একটি কুচক্রী মহল। আমার কোনো রাজনৈতিক পদ-পদবি নেই, তবুও হয়রানি করতেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।”
জানা গেছে, ঘটনার সময় অভিযুক্তদের চেম্বারে প্রবেশের সিসিটিভি ফুটেজ ও কথোপকথনের অডিও ক্লিপ সংরক্ষিত রয়েছে। তবে অভিযুক্ত আরাফ বিন রহমান নূর চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ডাক্তার পিয়াসকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলাম, চাঁদা চাইতে নয়।”
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের চেতনাকে ব্যবহার করে একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে তথাকথিত ‘মামলা বাণিজ্যে’ জড়িয়ে পড়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।