ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে চলমান সহিংস বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি শনিবার পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সোমবারের ব্যাপক সহিংসতার পর মঙ্গলবার ‘সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে আবারও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
গত ৪ আগস্ট নির্বাচন কমিশন এক গেজেটে ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা) আসনের দুটি ইউনিয়ন- আলগী ও হামিরদীকে পাশের ফরিদপুর-২ আসনে অন্তর্ভুক্ত করে। এর প্রতিবাদেই স্থানীয়রা কয়েক দফায় ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক এবং রেলপথ অবরোধ করে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবারের অবরোধ সহিংস রূপ নেয়। আন্দোলনকারীরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাঙ্গা থানায় হামলা ও ভাঙচুর চালায় এবং উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে। হামলায় টিকতে না পেরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য পাশের একটি মসজিদে আশ্রয় নেন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৯০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা এই সহিংসতাকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “যারা নির্বাচন চায় না, তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ইন্ধনে এই ধ্বংসাত্মক হামলা চালিয়েছে।” তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মঙ্গলবার, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির শেষ দিনেও সকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করা হয়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা ঈদগাহ মাঠে কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা।
আন্দোলনকারীরা আসন পুনর্বহালের পাশাপাশি কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হলো- আলগী ইউপি চেয়ারম্যানের নিঃশর্ত মুক্তি, সব মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ করা।
এদিকে, সোমবার রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক মো. কামরুল আহসান তালুকদার জানান, ইউনিয়ন দুটিকে আগের আসনে পুনর্বিবেচনার জন্য নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্য টহল দিচ্ছেন। কর্মসূচি স্থগিত হওয়ায় মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে, যা দক্ষিণবঙ্গের ২১ জেলার যাত্রী ও চালকদের মধ্যে স্বস্তি এনেছে।