সুদানের নীল নদ রাজ্যে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের একটি শিবিরে বিমান হামলায় অন্তত ৭২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত শনিবার ভোরে চালানো এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মানবাধিকার সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা প্রাথমিক হিসাবের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রোববার (১১ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে খার্তুমভিত্তিক সংগঠন ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, নীল নদ রাজ্যের একটি জনপ্রিয় স্বর্ণ অনুসন্ধানস্থলে বিমান থেকে হামলা চালানো হয়। এতে সেখানে কাজ করা বহু স্বর্ণ অনুসন্ধানকারী হতাহত হন।
সংগঠনটি বলেছে, নিরস্ত্র বেসামরিক মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেঁচে থাকার অধিকারের লঙ্ঘন। এমন কর্মকাণ্ড যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে তারা। তবে হামলার বিষয়ে মিশর সরকার ও সুদানের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যারিসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সুদান ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া এক ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৬টার দিকে হামলা শুরু হয়। স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের শিবির লক্ষ্য করে বিমান থেকে পাঁচটির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে শিবির ও খননস্থল ধ্বংস হয়ে যায়। হামলার সময় সেখানে বহু মানুষ অবস্থান করছিলেন।
এর আগে গত জুনে একই এলাকায় স্বর্ণ অনুসন্ধানস্থলে মিশরের সেনারা ড্রোন ও কামান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় কয়েকজন নিহত হয়েছিলেন বলেও দাবি করা হয়।

এ ছাড়া মিশরের সীমান্তরক্ষীদের বিরুদ্ধে স্বর্ণ অনুসন্ধানকারীদের সরঞ্জাম পুড়িয়ে দেওয়া, অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে আগুন দেওয়া এবং তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এসব ঘটনার কয়েক দিন পর মিশরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। অবৈধ অভিবাসন, মাদক পাচার ও অনুমতিবিহীন খনন বন্ধ করাকে এ অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই সময়ে সুদানের কার্যত নেতা আগের হামলার অভিযোগ তদন্তের ঘোষণা দেন।
সুদানে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে অনুমতি ছাড়াই স্বর্ণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনের প্রবণতা বেড়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমিত সরঞ্জাম ব্যবহার করে পরিচালিত এসব খননকাজ প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নীল নদ রাজ্যের মতো স্বর্ণসমৃদ্ধ এলাকাগুলো এমন সীমান্তের কাছে অবস্থিত, যেগুলো দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান চলে আসছে। এসব এলাকায় উত্তোলিত স্বর্ণও চোরাচালানের মাধ্যমে অন্যত্র পাচার হতে পারে।
গত জুনে মিশরের সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ৮৬ টন স্বর্ণ আকরিক ও স্বর্ণ অনুসন্ধানের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করেছে।
সুদানের সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলোতেও অনুমতিবিহীন স্বর্ণ উত্তোলন চলছে বলে খবর পাওয়া গেছে। চোরাচালানের মাধ্যমে পাওয়া স্বর্ণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থের জোগান দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সুদান থেকে অবৈধভাবে আসা স্বর্ণ মিশরের বৈধ স্বর্ণবাজারের জন্যও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
