আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দিয়েছে। মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেড) সর্বশেষ নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাবে শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিশ্ববাজারে সোনার দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমেছে। একই সঙ্গে রুপা, প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৪১ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সরবরাহের (গোল্ড ফিউচারস) সোনার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩ দশমিক ৬০ ডলারে লেনদেন হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির (এফওএমসি) বৈঠকের পর ডলার সূচক ঘুরে দাঁড়ানোয় সোনার বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য দেশের মুদ্রাধারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে এবং দামে পতন দেখা দেয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ডলার সূচক প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গেলেও শুক্রবার তা আবার ০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এই পুনরুদ্ধারও সোনার দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারের পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পড়েছে। সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরে সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ মনে করছেন, সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে আগের তুলনায় অনিশ্চয়তা বেড়েছে, যা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও পতন হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ৫৮ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৩৮ দশমিক ৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৮৯ দশমিক ৭৭ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহে মার্কিন অর্থনীতির নতুন তথ্য, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ফেডের পরবর্তী নীতিগত অবস্থানের ওপর নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক সোনার বাজারের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।
