মোঃ রাকিবুজ্জামান দশমিনা পটুয়াখালী:
গনঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা গলাচিপা) আসনে বিএনপি সমর্থিত ট্রাক প্রতিকের প্রার্থী নুরুল হক নূরের বিরুদ্ধে নির্বাচনে আচরনবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালা কমিটির আহব্বায়ক। সোমবার ১২ টার দিকে দশমিনা উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করা হাসান মামুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসন (গলাচিপা-দশমিনা) থেকে প্রতিদ্বন্দিতা করেছেন। দশমিনা-গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ সাধারন মানুষের দাবির মুখে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। নির্বাচনে তিনি ঘোড়া প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন। কিন্তু পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বিএনপির আসন সমঝোতার প্রার্থী হওয়ার পর থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও অসংলগ্ন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা দাবি করেন, নুরুল হক নুর গ্রাম-গঞ্জের নিরীহ অসহায় মানুষকে টাকা দিয়ে তাদের ভোট কেনার অপচেষ্টা করছেন। নুরের লোকজন অপচেষ্টার ফাঁদে না ফেলতে পেরে সাধারণ মানুষকে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য হুমকি ধমকি প্রদান করছেন। ইতিমধ্যে নুরুল হক নুর বলে বেড়াচ্ছেন এমপি হয়ে গিয়েছি। শুধুমাত্র ১২ তারিখের অপেক্ষা মাত্র।
বিএনপি নেতা বলেন, গণঅধিকারের প্রার্থী নুরুল হক নুর তার নির্বাচনী ব্যানার, ফেস্টুন, লিফলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ব্যবহার করছেন, যা নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া নুর বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে দশমিনা উপজেলা পরিষদের সামনে রঙিন বিলবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছেন, যা নির্বাচনী আচরণ বিধি পরিপন্থী। নির্বাচন কাজে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সম্মুখে এ ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতে থাকলেও নুরের বিরুদ্ধে আমরা কোনো আইনী ব্যবস্থা নিতে দেখছি না।
লিখিত বক্তব্যে বিএনপি নেতা বলেন, নুরুল হক নুরের স্ত্রী একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক হওয়া সত্বেও তিনি তার স্বামীর ট্রাক মার্কার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ঘটনাগুলো অনবরত ঘটতে থাকলেও এখন পর্যন্ত নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল আলীম তালুকদার বলেন, নুরুল হক নুরের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের নির্বাচনি অফিস ভাঙচুর ও কর্মী সমর্থকদেও পিটিয়ে আহত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সহ সভাপতি এ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, রুহুল আমীন মোল্লা, মোঃ মোফাজ্জেল হোসেন, মিজানুর রহমান জোমাদ্দার, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল, হুমায়ুন কবির মিলন, মাসুদুর রহমান পঞ্চায়েত, সংগঠনিক সম্পাদক বেল্লাল মৃধা, এ্যাডভোকেট এনামুল হক রতন, কোষাধ্যাক্ষ মোঃ মফিজুর রহমান প্রমূখ।
অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুল হক নুর বলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তো আমার প্রতিদ্বন্দি না তারা উশৃঙ্খলগোষ্ঠি তারা দলের সিদ্ধান্ত না মেনে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন তাই এখানে হাসান মামুন তাদের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ বানচালের ষড়যন্ত্র করছেন এবং আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকী ধামকী দিচ্ছেন। ভিপি নুর আরও বলেন, হাসান মামুন ২০ কোটি টাকা নিয়ে নির্বাচন বানচালকারীদের সাথে হাত মিলিয়েছে, জোটের প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের ছবি পোষ্টারে ব্যাবহার করার অধিকার আছে আমাদের।