কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা সেতুর নিচে পায়রা নদীর তীরে আয়োজিত মাসব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলার তৃতীয় দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে পুরো এলাকা। সোমবার (২৩ মার্চ) ঈদের দ্বিতীয় দিনে সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সী মানুষের ঢল নামে মেলা প্রাঙ্গণে, যা সন্ধ্যার পর আরও কয়েকগুণ বেড়ে গিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
সকাল থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় অংশ নেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা। নতুন এই পর্যটন স্পটটি দর্শনার্থীদের পদচারণায় হয়ে ওঠে মুখরিত। বিশেষ করে শিশু ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নাগরদোলা, নৌকা ভ্রমণ, ট্রেন ও মোটরসাইকেল রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজনে ছিল দীর্ঘ সারি। স্বল্প খরচে এসব বিনোদনের সুযোগ থাকায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বেড়েছে।
মেলার বিভিন্ন স্টলেও ছিল জমজমাট বেচাকেনা। খেলনা, ফাস্টফুড, ফুচকা, চানাচুর, বাদামসহ নানা ধরনের খাবারের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিক্রেতারা জানান, ঈদের দ্বিতীয় দিন হওয়ায় ক্রেতার চাপ বেশি ছিল এবং বিক্রি সন্তোষজনক হয়েছে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে মেলার সৌন্দর্য যেন আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। বর্ণিল আলোকসজ্জা, মানুষের কোলাহল আর বিনোদনের নানা আয়োজনে পুরো এলাকা পরিণত হয় এক প্রাণবন্ত উৎসবস্থলে।
আয়োজক প্রেসক্লাব দুমকি সূত্রে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পাশাপাশি ভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত দর্শনার্থীদের জন্য বিনোদনের সুযোগ তৈরি করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মাসব্যাপী চলমান এ মেলায় প্রতিদিনই নতুন নতুন আয়োজন রাখা হচ্ছে, যা আগামী দিনগুলোতে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলা প্রাঙ্গণে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবক দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে। ফলে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দর্শনার্থীরা নির্বিঘ্নে মেলা উপভোগ করছেন।