মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুর পৌর এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে আলমগীর হাওলাদার (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন করে নির্মমভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় মাসুদ বেপারী (৫৪) নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মাদারীপুর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন মাদারীপুর এলাকায় এ রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হাওলাদার নতুন মাদারীপুর এলাকার হাফেজ হাওলাদারের ছেলে।
স্থানীয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে আলমগীর হাওলাদারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ এই হামলায় অংশ নেয় লাভলু হাওলাদার, আলামিন চৌকিদার, জাচ্চু হাওলাদার, হানিফ চৌকিদার, আরিফ চৌকিদার, পলাশ হাওলাদার, সোহেল হাওলাদার, হান্নান ঢালী, কামরুল হাওলাদার, সুনীল হাওলাদার, শাহ আলম চৌকিদার, মাসুদ বেপারী, চান মিয়া মুন্সি, রনি মুন্সি, সাজন মুন্সি ও জাকির হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের অভিযোগ, হামলাকারীরা আলমগীর হাওলাদারকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাতে তাঁর ডান হাতের কবজি শরীর থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে মুমূর্ষু ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মাসুদ বেপারী নামে একজনকে আটক করেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করা হলে জড়িত বাকি আসামিদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বর্তমানে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।