রাজশাহীতে একটি চিহ্নিত উগ্রবাদী গোষ্ঠীর ক্রমাগত ষড়যন্ত্র, মিথ্যাচার ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে অরাজনৈতিক আন্দোলন হেযবুত তওহীদ। সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সংগঠনের রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হেযবুত তওহীদের রাজশাহী জেলা সভাপতি আরিফুজ্জামান গালিব।
লিখিত বক্তব্যে আরিফুজ্জামান গালিব বলেন, “হেযবুত তওহীদ টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী পন্নী জমিদার পরিবারের সদস্য জনাব মোহাম্মদ বায়াজীদ খান পন্নী প্রতিষ্ঠিত একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক এবং আইন মান্যকারী আন্দোলন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমরা সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরে আসছি। ঈমানী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবতার কল্যাণে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে আমাদের কর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিগত সরকারের পতনের পর ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন রাষ্ট্রের সংস্কার সাধনের জন্য সকল ব্যক্তি ও সংগঠনের কাছে প্রস্তাবনা আহ্বান করে, আমরাও ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ নামক একটি প্রস্তাবনা সরকারের কাছে পেশ করি। এই প্রস্তাবনার রূপরেখা জনসম্মুখে তুলে ধরতে আমাদের আন্দোলনের চেয়ারম্যান জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সেমিনার আয়োজন করেন। এর ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রেসক্লাবেও আমরা সেমিনার এবং গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করি, যেখানে দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং বিচারপতিগণও উপস্থিত ছিলেন।”
এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে চারটায় রাজশাহীর মনিবাজার এলাকার নানকিং চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি মুক্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
তিনি গভীর ক্ষোভের সাথে বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আয়োজনকে বানচাল করার জন্য একটি চিহ্নিত মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মাঠে নামে। রাজশাহী জেলা হেফাজত ইসলামের ব্যানারেও আমাদের অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য নানা ধরনের অপতৎপরতা চালানো হয়। ষড়যন্ত্রকারীরা গত জুমার দিন পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন মসজিদে আমাদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও বানোয়াট প্রচারণা চালায় এবং স্মারকলিপি প্রদানের নামে প্রশাসনের ওপর অবৈধ চাপ সৃষ্টি করে। এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় প্রশাসনের অনুরোধে আমরা আমাদের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছি।”
আরিফুজ্জামান গালিব আরও বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। এদেশের আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে আমাদের কথা বলার, সংগঠন করার, আদর্শ প্রচারের এবং সভা-সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। আমাদেরকে সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যা চরম বৈষম্যমূলক এবং সুস্পষ্ট মানবাধিকারের লঙ্ঘন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
তিনি জানান, এই ষড়যন্ত্র ও উস্কানিদাতাদের নাম-ঠিকানা এবং তথ্য-প্রমাণসহ গত ২৩ আগস্ট মতিহার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৮৪) করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা মনে করি, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানোর অজুহাতে উগ্রবাদীদের কাছে নতিস্বীকার না করে, প্রশাসনের উচিত এদের বিরুদ্ধে কঠোর ও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হেযবুত তওহীদের পক্ষ থেকে কর্মীদের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিটি অনুষ্ঠানে যথাযথ নিরাপত্তা প্রদান এবং দেশের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রাপ্য সকল অধিকার বলবৎ করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হেযবুত তওহীদের রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মশিউর রহমান এবং আঞ্চলিক আমির আশিক মাহমুদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি