BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

রৌমারী সীমান্ত: মানবিক সংকটে ৭৫ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখায় ৯ জন

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে তিন দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে নারী-শিশুসহ ৯ জন মানুষের জীবন। মাথার ওপর নেই কোনো ছাউনি, নেই নিরাপদ আশ্রয়। রোদ, বৃষ্টি আর সীমান্তের কড়া নজরদারির মাঝেই ৭৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে তারা অবস্থান করছেন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্যরেখায়।

মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কোনো সমাধান না আসায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অবস্থানের মাঝখানে আটকে পড়া এসব মানুষের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সকালে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বিষয়টি জানতে পেরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা দিলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান নেয়। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচেই দিন-রাত পার করছেন তারা।

সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, কাঁটাতারের কাছাকাছি অবস্থানরত নারী, পুরুষ ও শিশুদের চোখেমুখে ক্লান্তি আর উৎকণ্ঠার ছাপ স্পষ্ট। অনিশ্চয়তার দীর্ঘ অপেক্ষায় তারা যেন দিশেহারা। খাবার, বিশ্রাম ও নিরাপত্তার সংকটের মধ্যেই কাটছে তাদের সময়।

ওইদিন দুপুরে ঘটনাটি নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়ায় তারা এখনও সীমান্তেই অবস্থান করছেন।

পুশইনের শিকার সুমি আক্তার ও বেলাল দাবি করেন, তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। পরে বিএসএফ তাদের আটক করে এবং গত রবিবার ভোরে সীমান্তে নিয়ে আসে। তবে বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধার কারণে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে ওই ৯ জন ভারতের অভ্যন্তরে কাঁটাতারের পাশেই অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সীমান্ত এলাকায় উভয় বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নারী ও শিশুদের দীর্ঘ সময় ধরে এমন মানবেতর অবস্থায় থাকতে দেখে তারা উদ্বিগ্ন। মানবিক বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিষয়টির স্থায়ী সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, “রবিবার দুপুরে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যাচাই-বাছাই ও আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।”

তিন দিন ধরে সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে থাকা নারী-শিশুসহ ৯ জনের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তাদের অপেক্ষা কোনো একটি সিদ্ধান্তের, কোনো একটি নিরাপদ আশ্রয়ের। আর স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, মানবিক সংকটের এই অধ্যায়ের শেষ কোথায়?

Pearl IT
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
কন্টেন্ট পাবলিশিং
এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »