BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

হরমুজ নিয়ে সমঝোতা ব্যর্থ, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন পথে ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত দ্রুত শেষ করার প্রচেষ্টা আটকে যাওয়ার পর কৌশল বদলাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সরাসরি সামরিক অভিযান বা কূটনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর না করে এবার তেহরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করা, ইরানের তেল ও আর্থিক আয়ের পথ সংকুচিত করা এবং বন্দর অবরোধের চাপ বজায় রাখার মাধ্যমে দেশটির ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ তৈরিই এখন ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন কৌশলের মূল ভিত্তি।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার বিষয়ে কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। হরমুজ নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের অবস্থানও একেবারেই বিপরীত। ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে মাশুল এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের কাছে অতীতের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ফলে ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগ থাকলেও আলোচনার অগ্রগতি থমকে আছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে কমিয়ে আনার কথাও বলছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিকল্প পাইপলাইন ও জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা গেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে হরমুজের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজে নৌ অবরোধ ও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনাও করছে।

ট্রাম্পের কৌশল পরিবর্তনের পেছনে সামরিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ফলে নতুন করে আরও বড় সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পরিবর্তে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে দুর্বল করার পথ বেছে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুতের ঘাটতি ও যুদ্ধের রাজনৈতিক চাপকে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কৌশলে ফেরার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে তেহরানের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াতে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে এমন কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে, যার নজির আগে দেখা যায়নি। তেল রপ্তানি, আর্থিক লেনদেন ও ইরানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করে চাপ আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হিসাব অনুযায়ী, এই অর্থনৈতিক চাপের ফলে ইরানের মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, তেল থেকে রাজস্ব আয় কমছে এবং অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে সংকট তৈরি হচ্ছে। ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপ শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আলোচনায় আরও বড় ছাড় দিতে বাধ্য করে।

তবে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা অতীতে দেশটির অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করলেও প্রত্যাশিত রাজনৈতিক ফল সবসময় আনতে পারেনি। এবারও শুধু অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে তেহরানকে দ্রুত সমঝোতায় আনা সম্ভব হবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির সংকটের প্রভাব শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দামও বাড়তে পারে। সোমবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা থমকে যাওয়া এবং হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ার প্রভাবে তেলের বাজারে নতুন করে উদ্বেগ দেখা গেছে।

এর মধ্যেই ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার কথা বিবেচনা করছেন। ইরান অবশ্য তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং জানিয়েছে, প্রণালিটি ইরানের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে। ফলে হরমুজকে ঘিরে দুই দেশের বিরোধ আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চাপ আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও। আগামী নভেম্বরে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন। দীর্ঘ যুদ্ধ ও জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণ মার্কিন ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করলে সেটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম ও যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা বাড়ছে।

ফলে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বর্তমান কৌশলকে শুধু সামরিক সংঘাতের বিকল্প হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি পাওয়া যাবে না। একদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধের মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ বাড়ানো, অন্যদিকে হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা—সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন এখন দীর্ঘমেয়াদি চাপের কৌশলেই এগোতে চাইছে। তবে ইরান কতটা চাপ সহ্য করতে পারবে এবং শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ সমঝোতায় যেতে বাধ্য হবে, সেটিই এখন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বড় প্রশ্ন।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »