BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে মেধার জয়: নিরপেক্ষ সার্চ কমিটি ও দেশনায়ক তারেক রহমানের শিক্ষাদর্শন

জুবাইয়া বিন্তে কবির:

 

 

শিক্ষা কোনো স্থবির জলাশয় নয়; শিক্ষা এক প্রবহমান নির্ঝরিণী, যার বিশুদ্ধতার ওপর নির্ভর করে গোটা জাতির মননশীলতার ভবিষ্যৎ। সেই নির্ঝরিণীকে স্বচ্ছ ও গতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আসনে চাই এমন নেতৃত্ব, যাঁর মেধা আকাশছোঁয়া আর সততা আলোকবর্তিকার মতো নির্মল। একসময় যেখানে আনুগত্যের নিগড়ে বন্দী হয়ে সংকুচিত হতো প্রাতিষ্ঠানিক প্রজ্ঞা, সেখানে এবারের নতুন অধ্যায়ে দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও সংস্কারমুখী নেতৃত্বে উচ্চশিক্ষায় নেমে এসেছে এক মহাজাগরণ। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সার্চ কমিটির মাধ্যমে যে সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তা জাতির ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের সূচনা। এ নিছক কোনো প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়; স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক তদবিরের অন্ধকার ভেদ করে জ্ঞান ও প্রজ্ঞাকে তার প্রাপ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার এক পরম ব্রত। ইতিহাসের কিছু মুহূর্ত নীরবে আসে, শোরগোল ছাড়াই বদলে দেয় জাতির ভবিষ্যৎ দেশনায়ক তারেক রহমানের এই নেতৃত্ব-পুনর্গঠন তেমনই এক নীরব বিপ্লব। দীর্ঘদিন শিক্ষাঙ্গনের বাতাসে ভাসা প্রশ্ন উপাচার্য হবেন কে, যোগ্যতায় না আনুগত্যে আজ তার উত্তর মিলছে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়, যা পুরনো অন্ধকার সরিয়ে আলোর পথ দেখাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিছক ইট-পাথরের ভবন নয়; জাতির বিবেক ও স্বপ্ন নির্মাণের কারখানা। ফলে তার শীর্ষ পদ নিয়ে প্রশ্ন-বিতর্ক ওঠা স্বাভাবিক, আর অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদের সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যেরই অংশ। কিন্তু তা যখন তথ্যের বদলে অনুমানের ওপর দাঁড়ায়, তখন সত্য অনুসন্ধানের বদলে বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তবে একটি মন্তব্যের আলোয় গোটা প্রক্রিয়াকে বিচার করার আগে দরকার তথ্য ও নিয়োগপ্রাপ্তদের একাডেমিক জীবনের নিরপেক্ষ পর্যালোচনা।

সার্চ কমিটি: পুরোনো সংস্কৃতির বিপরীতে নতুন কাঠামো :
একসময় উপাচার্য নিয়োগের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল ক্ষমতার নৈকট্য যোগ্যতাকে ছাপিয়ে যেত। সেই পুরোনো ছায়ার বিপরীতে সার্চ কমিটির ধারণাই একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই ব্যবস্থার গোড়াপত্তন হয়, আর গত ১ এপ্রিল দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার সেই কাঠামোকে আরও বিস্তৃত ও মজবুত করেছে। নতুন বাংলাদেশের রাষ্ট্রচিন্তায় একটি বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি উপাচার্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক পদ নয়; এটি একটি একাডেমিক আমানত। তাই ব্যক্তিগত পছন্দ বা তদবিরের বদলে একাডেমিক রেকর্ড, গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্বের সামর্থ্য, সততা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিয়েই দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করেছে। এই প্রক্রিয়ার মূল দর্শন যোগ্য প্রার্থীকে খুঁজে বের করা, তাঁর একাডেমিক ও প্রশাসনিক জীবন যাচাই করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও প্রয়োজনের সঙ্গে তাঁর সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা। সার্চ কমিটির সদস্য দেশ বরেন্য শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানও বলেছেন, উপাচার্য নিয়োগে ব্যক্তিগত পছন্দের পরিবর্তে প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড, গবেষণা, শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও সততাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে । অর্থাৎ নিয়োগের প্রকৃত শক্তি কোনো এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে নিহিত নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক যাচাই-বাছাইয়ের গভীরতায়।

গবেষণা ও যোগ্যতার আলোয় নতুন নেতৃত্ব : পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান কীটতত্ত্বে পিএইচডিধারী গবেষক; তাঁর ৫১টি জার্নাল প্রকাশনা ও ১৪টি কনফারেন্স পেপারের পাশাপাশি রেজিস্ট্রার ও উপ-উপাচার্য হিসেবে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের নেতৃত্বে গবেষণা ও আঞ্চলিক বাস্তবতাভিত্তিক একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নবীন পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছবিরুল ইসলাম হাওলাদারের সামনে রয়েছে নতুন একাডেমিক কাঠামো গড়ার বড় দায়িত্ব। ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবু জাফর খান আধুনিক আরবি শিক্ষায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছেন। একইভাবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান ভিন্ন ভিন্ন জ্ঞানশাখার অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষক। এসব নেতৃত্ব দেখিয়ে দেয়—উপাচার্যের যোগ্যতা শুধু বিভাগের পরিচয়ে নয়; গবেষণা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সততা, নেতৃত্ব ও দূরদৃষ্টির সমন্বয়েই তার প্রকৃত মূল্যায়ন।

তারেক রহমানের রাষ্ট্রদর্শনে জবাবদিহি : প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ঘোষিত প্রশাসনিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’। জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেন, সরকার যেকোনো উপায়ে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ক্ষেত্রেও এই নীতি প্রযোজ্য হওয়াই স্বাভাবিক কারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি টাকা জনগণের টাকা, প্রতিটি পদ জনগণের সম্পদ, আর প্রতিটি সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর প্রভাব ফেলে।

সংখ্যার ভেতরেও একাডেমিক বৈচিত্র্যের ছাপ : গত মার্চে সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ পান রাজশাহী, চট্টগ্রাম, জগন্নাথ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসে নতুন নেতৃত্ব। এরপর মে মাসে আরও ১১টি, জুনে চারটি এবং জুলাইয়ে আরও তিনটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এই ধারাবাহিক নিয়োগের মধ্যে বিভিন্ন শাখার অধ্যাপক, গবেষক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষাবিদদের অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে, একাডেমিক বৈচিত্র্যকে একেবারে উপেক্ষা করা হয়নি।

বৈচিত্র্যেই নেতৃত্বের সৌন্দর্য : বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের জ্ঞান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; তবে উপাচার্যের দায়িত্ব কোনো একটি বিভাগের গবেষণায় সীমাবদ্ধ নয়। তাঁকে শিক্ষক, গবেষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ের পাশাপাশি প্রশাসন, অর্থব্যবস্থা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন সামলাতে হয়। তাই ভিন্ন শাস্ত্রের অধ্যাপক মানেই অযোগ্য এ ধারণা একপেশে। একজন উপাচার্যের প্রকৃত মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাঁর গবেষণার মান, প্রশাসনিক দক্ষতা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, দূরদৃষ্টি ও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতায়। বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানের বহুরঙা মোজাইক; সেখানে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির পাশাপাশি মানবিকতা, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষারও প্রয়োজন। পরিচয় নয়, কর্মই হোক নেতৃত্বের চূড়ান্ত মানদণ্ড।

শিক্ষাকে ব্যয় নয়, ভবিষ্যতের বিনিয়োগ : দেশনায়ক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার শিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষা খাতে প্রস্তাবিত ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা এবং পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সেই অগ্রাধিকারেরই প্রতিফলন। তবে অর্থ বরাদ্দই শেষ কথা নয়; এর সুফল পৌঁছাতে হবে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার ও শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতে। প্রাথমিকের প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে একই উন্নয়ন-দর্শনের অধীনে এগিয়ে নিতে হবে। আজকের শিক্ষায় বিনিয়োগই আগামী দিনের জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পুঁজি।

পরীক্ষা শুরু আজ থেকেই : উপাচার্যের নিয়োগপত্র তাঁর সাফল্যের শেষ নয়, বরং পরীক্ষার প্রথম দিন। গবেষণার অর্থের সঠিক ব্যবহার, টেন্ডারে স্বচ্ছতা, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, শিক্ষার্থীর অধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষা—এসবের মধ্য দিয়েই তাঁদের প্রকৃত পরিচয় প্রতিষ্ঠিত হবে। ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মত থাকতে পারে; কিন্তু দায়িত্বে এসে উপাচার্যের প্রথম পরিচয় হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি প্রকল্প, প্রতিটি ক্রয় ও প্রতিটি নিয়োগে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রতিফলনও হতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে। কারণ দুর্নীতি শুধু অর্থের ক্ষতি করে না, প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ভিত্তিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন করার স্বাধীনতা থাকে, সেখানেই জ্ঞানের আলো সবচেয়ে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীর চোখে উপাচার্যের সাফল্য : একজন শিক্ষার্থীর কাছে উপাচার্য কোনো দূরবর্তী প্রশাসনিক নাম নন; তাঁর সিদ্ধান্তই অনেক সময় নির্ধারণ করে ক্যাম্পাসের প্রতিদিনের জীবন। হলের খাবার, গবেষণার সুযোগ, সেশনজট, গ্রন্থাগারের সময়, নিরাপত্তা কিংবা একটি মুক্ত ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ সবকিছুর ওপর তাঁর নেতৃত্বের ছাপ পড়ে। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য শুধু র‌্যাংকিং বা পরিসংখ্যানে নয়; তা ধরা পড়বে শিক্ষার্থীর স্বস্তিতে, গবেষণাগারের জ্বলে থাকা আলোয় এবং শ্রেণিকক্ষে মুক্তচিন্তার উন্মুক্ত জানালায়।

উপাচার্য সম্মানের, আইনের ঊর্ধ্বে নন : উপাচার্য পদ মর্যাদার, কিন্তু সেই মর্যাদা কখনোই আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার অনুমতি নয়। কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তে যাচাই হতে হবে; অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদ নয়, আইনই হবে শেষ কথা। একই সঙ্গে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বানানোও ন্যায়বিচার নয়। প্রমাণ, তদন্ত ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ এই পথেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সত্যিকারের জবাবদিহির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ‘জিরো টলারেন্স’-এর প্রকৃত সৌন্দর্য সেখানেই তা যেন ব্যক্তি নয়, অপরাধের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়।

আনুগত্য নয়, কাজেই হোক উপাচার্যের পরিচয় : সার্চ কমিটির সদস্য, ইউট্যাবের সভাপতি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক, মার্কেটিং বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানের মতে, উপাচার্য নিয়োগে ব্যক্তিগত পছন্দ, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা তদবির নয় প্রার্থীর একাডেমিক অর্জন, গবেষণা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনের সঙ্গে তাঁর সক্ষমতার সামঞ্জস্যই হওয়া প্রধান বিবেচনা। তাঁর দৃষ্টিতে, নতুন উপাচার্যদের এখন পরিচয়ে নয়, কাজে নিজেদের প্রমাণের সময়। দুর্নীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারে কেউ জড়ালে পদমর্যাদা তাঁকে রক্ষা করতে পারে না; আবার সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে তার যথাযথ স্বীকৃতিও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। কারণ উপাচার্যের চেয়ার সাময়িক, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস দীর্ঘ। তাঁদের সামনে তাই একটাই অঙ্গীকার ব্যক্তিকে নয়, প্রতিষ্ঠানকে বড় করা; ক্ষমতাকে নয়, জ্ঞান ও মেধাকে মর্যাদা দেওয়া। আর সরকারের দায়িত্ব হলো অভিযোগে নিরপেক্ষ তদন্ত, অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ভালো কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।

পরিশেষে, ইতিহাস প্রজ্ঞাপন মনে রাখে না, মনে রাখে কর্ম,
আনু মুহাম্মদের প্রশ্ন তাই বাতিল নয়, বরং তার প্রকৃত জবাব লেখা হবে বাস্তব কর্মের কালিতে। দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণার যে দর্শন আজ রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে জায়গা করে নিয়েছে, তার সঙ্গে যখন উপাচার্য নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার এই চর্চা যুক্ত হয়, তখন উচ্চশিক্ষার আকাশে সত্যিই এক নতুন ভোরের আভা ফুটে ওঠে। সার্চ কমিটির প্রজ্ঞাবান সদস্যবৃন্দের সুগভীর অনুসন্ধান আরতারেক রহমানের মেধাভিত্তিক, দেশপ্রেমী রাষ্ট্রচিন্তার এই শুভ মিলন জাতীয় শিক্ষাঙ্গনে দীর্ঘস্থায়ী আলোর তরঙ্গ তুলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নিবেদিতপ্রাণ, আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষক-গবেষকদের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল তুলে দেওয়ার এই ধারা প্রমাণ করে এই সরকার মুখের কথায় নয়, কাজের আয়নায় ইতিহাস রচনায় বিশ্বাসী। ফলে আজকের বিশ্ববিদ্যালয় আর ক্ষমতাচর্চার আখড়া নয়; বরং বৈশ্বিক মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জ্ঞানতীর্থ। কোনো উপাচার্যের পরিচয় তাঁর নিয়োগপত্রে লেখা থাকে না লেখা থাকে তাঁর কর্মে। যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি টাকাকে আমানত ভাবেন, গবেষণাগারকে জ্ঞানতীর্থে পরিণত করেন, শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে নিজের দায় মনে করেন তিনিই হয়ে ওঠেন প্রকৃত শিক্ষানায়ক। নতুন বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় তাই আনুগত্যের ছায়ায় নয়, দাঁড়াক মেধার আলোয়। সেখানে উপাচার্য হবেন ক্ষমতার প্রতীক নন, জ্ঞান ও নৈতিকতার অভিভাবক। কে কোন সরকারের সময়ে উপাচার্য হলেন, তার চেয়ে বড় প্রশ্ন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে কতটা আলোকিত করলেন। দেশনায়ক তারেক রহমানের এই মেধাভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উচ্চশিক্ষা-ভিত্তি গড়ার প্রয়াসের সার্থকতা প্রমাণিত হবে আগামী দিনের ফলাফলেই আর সেটাই হবে আলোকিত, আত্মমর্যাদাপূর্ণ নতুন বাংলাদেশের অকাট্য দস্তাবেজ।

 

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -