দেশে জ্বালানি, সার, গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে নানা সংকটের পেছনে সরকারবিরোধী একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তার দাবি, সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে জ্বালানি সংকট ইতোমধ্যে নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং অন্যান্য খাতেও সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্টদের দোসররাই বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশে বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে প্রথমে জ্বালানি সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল।
তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট চক্র সারাদিন এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করত। সরকারের কঠোর পদক্ষেপের কারণে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই সংকটের সমাধান হয়েছে।
সারের কৃত্রিম সংকট নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ রয়েছে। এরপরও ফ্যাসিবাদের আমলের ডিলারদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়েও সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরেন তিনি। মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানিতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে সংকট মোকাবিলায় সরকার উচ্চমূল্যে এলএনজি কিনছে।
তার দাবি, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ৯ থেকে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করা হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম এবং অকৃষি জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য তিন ও পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্যসেবা খাতেও বড় ধরনের উদ্যোগের কথা জানান তিনি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ‘হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং সেন্টার’ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা আরও শক্তিশালী করতে ৪২ হাজার ৩৯০ জন নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবির, মঈনুল ইসলাম খান এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম।
