গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আয়োজিত মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কামারজানি-দাড়িয়াপুর সড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন গাইবান্ধা সদরের গিদারি ইউনিয়নের বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধা সদর উপজেলার উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রেজিয়া মার্কেটের কাছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উত্তর গিদারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল ১০টার দিকে ‘সচেতন এলাকাবাসী ও অভিভাবকবৃন্দ’-এর ব্যানারে উত্তর গিদারী রেজিয়া মার্কেট এলাকায় এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য আব্দুল ওয়াহেদ বাবলুর সভাপতিত্বে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আব্দুর রশিদ সরকার, হাফেজ মো. খায়রুল ইসলাম ও ফয়জার রহমানসহ অনেকে।
অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধনে বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের কয়েকজন অনুসারী সেখানে এসে মানববন্ধন বন্ধ করার হুমকি দেয়। এ নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তোপের মুখে পড়ে তারা সেখান থেকে সটকে পড়ে। এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কামারজানি-দাড়িয়াপুর সড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে।

বক্তারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও ভুক্তভোগী আব্দুল ওয়াহেদ বাবলু বলেন, "প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন এবং জেলা শহরে অবস্থান করে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া আমার মেয়েকে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমার ও একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। আমরা তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।"
স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর বলেন, "শিক্ষক অনিয়ম করলেও আমরা প্রতিবাদ করতে পারব না? যার ইশারায় আমাদের প্রতিবাদে বাধা দেওয়া হয়েছে, তাকেসহ বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।"
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। এমনকি মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, মানববন্ধনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বেলুছুর রহমানের সাবেক শিক্ষার্থী পরিচয় দেওয়া রনি বলেন, "বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছিল। এর মধ্যেই এই মানববন্ধন করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুণ্ন করছে।"
