মাকসুদ আহমেদ বায়েজীদ,মির্জাগঞ্জ, প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পায়রা নদীতে মা ইলিশ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে কোস্ট গার্ড ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সহ যৌথ অভিযানিক দল।
অভিযানের সময় জেলেদের ছোড়া ইট-পাটকেলের আঘাতে কোস্ট গার্ডের একটি স্পিডবোটের সামনের কাচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায় এবং উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মুহম্মদ মাহফুজুর রহমান কিছুটা আহত হন।
তবে হামলার মুখেও অভিযান অব্যাহত রেখে নদী থেকে দুটি মাছ ধরার নৌকা ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা প্রায় ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ভিকাখালী গ্রামের পাশের পায়রা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মৎস্য কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নদীতে অভিযান চালায়। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত জেলেরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে মাছ ধরার জাল নদীতে ফেলে নৌকা নিয়ে দ্রুত তীরে উঠে যান।
সেখান থেকে কোস্ট গার্ডের স্পিডবোট ও ট্রলার লক্ষ্য করে শিকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে স্পিডবোটের সামনের গ্লাস ভেঙে যায় এবং মৎস্য কর্মকর্তার মাথায় আঘাত লাগে।
ঘটনার পর মৎস্য কর্মকর্তা বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন এবং বাজারে উপস্থিত হয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিস্তারিত জানেন।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেল জানান, “যারা এ আক্রমণ করেছে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম উদ্ধার করতে না পারলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও মৎস্য অফিস থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পটেনশিয়াল (সম্ভাব্য) ইনফর্মার হিসেবে স্থানীয়দের নাম উল্লেখ করে মামলা করব। তিনি আরো জানান,অভিযানে প্রায় ১২ হাজার মিটার জাল এবং দুটি নৌকা জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের উপস্থিতিতে জব্দ করা ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
