BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

প্রিয় শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে বিদায়, আবেগাপ্লুত শিক্ষার্থীরা!

দীর্ঘ ২০ বছরের শিক্ষকতা জীবনের ইতি টানলেন দিনাজপুরের ঈদগাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফজলুর রহমান। শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নেওয়া, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে কর্মজীবনের শেষ দিনে প্রিয় শিক্ষককে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সুসজ্জিত ঘোড়ার গাড়িতে করে তাঁকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। ফুল, মানপত্র ও লাল গালিচায় সাজানো এ বিদায় আয়োজন পরিণত হয় আবেগঘন মুহূর্তে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও প্রধান শিক্ষকের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়। সকাল ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা ফজলুর রহমানকে তাঁর বাসভবন থেকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। সেখানে লাল গালিচা বিছিয়ে তাঁকে বিদ্যালয়ের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা পুষ্পস্তবক ও মানপত্র দিয়ে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ নভেম্বর প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকে ফজলুর রহমান বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সমস্যা ও পারিবারিক পরিস্থিতির প্রতিও গুরুত্ব দিতেন।

বিশেষ করে ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়া, অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার মতো উদ্যোগ তাঁকে সবার কাছে প্রিয় করে তোলে। তাঁর এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সহকর্মীদের সঙ্গে গড়ে ওঠে আন্তরিক সম্পর্ক।

শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না এই শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণেও উৎসাহ দিতেন তিনি। তাঁর দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য অর্জন করে।

বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম হাবিবুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। পরে দুপুর সাড়ে ১২টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাফী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খন্দকার মো. আলাউদ্দিন আল আজাদ। এ সময় বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাসুমা জাহানসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একই সঙ্গে ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান।

দীর্ঘ কর্মজীবনের শেষ দিনে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে বিদ্যালয়ে ফেরা ফজলুর রহমানের জন্য ছিল এক ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা। তবে এই আয়োজনের পেছনে ছিল আরও গভীর এক অনুভূতি—শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ ও দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি। চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো এই শিক্ষকের স্মৃতি ও অবদান বিদ্যালয়ের মানুষদের মনে থেকে যাবে।

Pearl IT
✔ ওয়েব ডিজাইন
✔ গ্রাফিক্স ডিজাইন
✔ কন্টেন্ট পাবলিশিং
✔ এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »