পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় চলাচলকারী গণপরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই বাড়তি ভাড়া ৮৩২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
বুধবার (২৬ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য জানান।
বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া
পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, এবারের ঈদে ঢাকা থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষ গ্রামের বাড়ি যাবে। বাস, লঞ্চ, ট্রেন, নৌযান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
- নৌপথ: সদরঘাট ও নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর থেকে ২০০টি নৌযানে প্রায় ৪০ লাখ যাত্রী ভ্রমণ করবে। যাত্রীপ্রতি গড়ে ২০০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হলে এ খাতে ৮০ কোটি টাকা বাড়তি নেওয়া হবে।
- সিএনজি ও রিকশা: ঢাকায় ২০ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা প্রায় ৩০ লাখ ট্রিপ পরিচালনা করবে, যেখানে ৬০ কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও প্যাডেল রিকশায় ১৬০ কোটি টাকা বাড়তি আদায় হতে পারে।
- হিউম্যান হলার: ৭ হাজার হিউম্যান হলার ৮০ লাখ ট্রিপে গড়ে ২০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে, যা ১৬ কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
- দূরপাল্লার বাস: বাস-মিনিবাসে ৩০ লাখ ট্রিপের যাত্রীরা গড়ে ৩০০ টাকা হারে অতিরিক্ত ভাড়া পরিশোধ করবে, যার পরিমাণ দাঁড়াবে ৯০ কোটি টাকা।
- রাইড শেয়ারিং মোটরসাইকেল: ৫ লাখ মোটরসাইকেলে ২৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হতে পারে।
- ট্রেন: ট্রেনের ছাদে যাত্রী বহনের কারণে যাত্রীরা ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। বিনা টিকিটের যাত্রীর কাছ থেকে ট্রেন সংশ্লিষ্টরা ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আদায় করছে।
- আকাশপথ: অভ্যন্তরীণ রুটে ১ লাখ যাত্রী গড়ে সাড়ে ৩ হাজার টাকা বাড়তি ভাড়া দিচ্ছেন, যার পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকা।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দাবি, গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
এছাড়াও সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরসহ বিভিন্ন খেয়াঘাটে অতিরিক্ত ঘাট ফি ও কুলিদের চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।