BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিতে ২০ হাজার মানুষ, সমাধানের আশ্বাস

একহাতে রেলিং ধরে অন্য হাতে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে এক ব্যক্তি বাঁশের সাঁকো পার হচ্ছেন। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার জুঁইদণ্ডী ও রায়পুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী সাপমারা খালের ওপর জীর্ণ এই সাঁকোটি দাঁড়িয়ে আছে। বাঁশের নড়বড়ে সাঁকোটির ওপর দাঁড়িয়ে ২৮ বছর বয়সী খুশি আক্তার ভাঙা কণ্ঠে বলেন, ‘ভালা গরি ছবি তুলি সরকাররে দেহন…আরা হত হষ্টত আছি। আঁরারে চাইবার মতো কেউ নাই। দেশর এত উন্নতি অঁর, কিন্তু আঁরার অবস্থার হন রহম পরিবর্তন নর।’

তার আঞ্চলিক ভাষার এই কথার অর্থ হলো, ‘ভালো করে ছবি তুলে সরকারকে দেখান, আমরা কত কষ্টে আছি। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। দেশের উন্নতি হচ্ছে, কিন্তু আমাদের জীবনে সেই উন্নতির কোনো ছোঁয়া লাগেনি।’ প্রতিদিন ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে ভয়ে ভয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পার হন তিনি। নিচে গভীর খাল, সামান্য ভুলে পা পিছলে পড়লে বাঁচার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন স্থানীয়রা।

খুশি আক্তার একা নন। সাঁকোর দুই পাশে বসবাসকারী বাসিন্দাদের সবার মুখে একই অভিযোগ। শিক্ষা কিংবা চিকিৎসা, সরকারের যেকোনো সেবা নিতে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকোটি পার হতে হয়। সাঁকোর পূর্ব পাশে রয়েছে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো পার হতে হয়। অন্যদিকে পশ্চিম পাশে রয়েছে সরেঙ্গা বাজার। বাজার-সদাই, চিকিৎসা ও কর্মস্থলে যাওয়াসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে খুরুস্কুলসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত মানুষকে প্রতিদিন এই সাঁকো দিয়েই চলাচল করতে হয়। স্থানীয়রা চান, এখানে একটি স্থায়ী ও মজবুত সেতু তৈরি করা হোক। সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকেও আশ্বাস পাওয়া গেছে। তারা বলছেন, এরইমধ্যে ওই এলাকার জন্য ছয়টি সেতুর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।

স্থানীয় ঠাণ্ডা মিয়া চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিফুল ইসলাম বলে, ‘ছোটবেলা থেকেই সাঁকোটি দেখছি। এই সাঁকোর জন্য পাশের জে কে এস স্কুলে ভর্তি হতে পারিনি। এখন অনেক দূরের স্কুলে যেতে হয়।’ একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ জারিফ বলে, ‘দূর থেকে সাঁকোটা শক্তিশালী মনে হয়। কিন্তু ওঠার পর বাঁশের নড়াচড়ার শব্দে বুক কেঁপে ওঠে। মাঝপথে গেলে মনে হয় এই বুঝি ভেঙে পড়ল। আমার থেকে বয়সে ছোটরা ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলে। জানি না কবে নিরাপদ একটা সেতু দিয়ে চলতে পারব।’

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জোড়াতালি দিয়ে তৈরি বাঁশের সাঁকোটির অবস্থা ভয়াবহ। অনেক জায়গায় বাঁশ ফেটে গেছে, কোথাও বেঁধে রাখা রশি খুলে গেছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বেড়ে সাঁকোর নিচ পর্যন্ত ছুঁয়ে যায়। তখন সামান্য ঢেউ বা ভারসাম্য হারালেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশের দফাদার জামাল উদ্দিন বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিরা আসে, দেখে, আশ্বাস দেয়। কিন্তু কাজের কাজ আর হয় না। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদকে বহুবার বলছিলাম। তিনি বলেছিলেন বিষয়টি জানেন। কিন্তু জানলেই তো হলো না, আমাদের কষ্ট কমল কোথায়?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এই কষ্ট চলছে। এখনো সেই বাঁশের সাঁকোই ভরসা।’ রায়পুর ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের অন্তত ২০ হাজার মানুষ সরাসরি এই সাঁকোর ওপর নির্ভরশীল। তাদের একমাত্র দাবি, সাপমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতু নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা প্রকৌশলী জাহেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সরেঙ্গা বেড়িবাঁধ সড়কের সাপমারা খালের ওপর সংযোগ সেতুসহ ওই এলাকার মোট ছয়টি সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘সেতু নির্মাণের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে বাস্তবায়ন শুরু হবে।’

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »