বাংলাদেশে দুর্নীতির তদন্তে সহায়তা করতে পারে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্টি-করাপশন কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’ (আইএসিসিসি)। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানিয়েছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার উপায় খুঁজছে সংস্থাটি।
এর আগে, ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দেশে বিপুল সম্পদের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুরুতর। দেশে তার সব সম্পদ খতিয়ে দেখা হবে।”
২০২৪ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত এনসিএ’র বিশেষজ্ঞ দল বাংলাদেশ সফর করে। তবে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, এনসিএ বা আইএসিসিসি সরাসরি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অর্থপাচারের বিষয়ে অনুসন্ধানের সম্ভাবনা বাড়ছে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর তার বিরুদ্ধে গুম, খুন ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মুহাম্মদ ইউনূস স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। তার সহযোগী ও পরিবারের সদস্যরাও বিচারের আওতায় আসবেন।”
অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুদক টিউলিপসহ শেখ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ ও অর্থপাচারের অভিযোগ আনে। তদন্তে লন্ডনে বেশ কয়েকটি বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই অভিযোগের পর গত জানুয়ারিতে ব্রিটেনের আর্থিক সেবা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন টিউলিপ সিদ্দিক। তবে তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
এছাড়া, ঢাকার পূর্বাচলে শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের অনিয়মিতভাবে নেওয়া প্লট, গাজীপুরের কানাইয়ায় ‘টিউলিপ’স টেরিটরি’ নামে অবকাশযাপন বাড়ি এবং গুলশানে বিলাসবহুল ভবন ‘সিদ্দিকস’-এর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফও ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার বাড়ির সঙ্গে টিউলিপের যোগসূত্রের কথা জানিয়েছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুদক তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি এবং তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।