BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

রাজনীতির পথে: কিছু স্মৃতিচারণ –ঃচাকলাদার গোলাম সারোয়ার

চাকলাদার গোলাম সরোয়ার আহবায়ক দুমকি উপজেলা ছাত্রদল:

 

রাজনীতি করে অন্যায় পন্থায় কোটিপতি হব—এমন কোনো স্বপ্ন, লোভ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থ নিয়ে আমি কখনো রাজনীতিতে আসিনি। উচ্চাকাঙ্ক্ষাও আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে আল্লাহ তাআলা যদি এর চেয়েও ভালো কিছু দেওয়ার ইচ্ছা রাখেন, সেটি তাঁরই রহমত ও নিয়ামত।

 

 

আমার কাছে রাজনীতি মানে প্রাপ্তির হিসাব নয়; রাজনীতি মানে আদর্শ, বিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের এক দীর্ঘ পথচলা।

☞ রাজনৈতিক পথচলার শুরুঃ-

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে বড় ভাইদের সঙ্গে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে যাওয়া-আসার মধ্য দিয়ে রাজনীতির প্রতি আমার আগ্রহ ও সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।

সেই নির্বাচনের শেষদিকের একটি স্মরণীয় ঘটনা আজও আমার চোখে ভাসে। পটুয়াখালীর পিডিএস মাঠে আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জনসভা ছিল। তিনি ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে পটুয়াখালী এসেছিলেন।

সেদিন টানা প্রায় ২৪ ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমি সহ অসংখ্য মানুষ সারারাত জেগে অপেক্ষা করেছিলাম তাঁকে একনজর দেখার জন্য। অবশেষে সকালে প্রায় ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি পটুয়াখালীতে পৌঁছান।

এত বিপুল মানুষের উপস্থিতি, এত দীর্ঘ অপেক্ষা—সেই নিদ্রাহীন রাত আমার রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে আছে।

পরবর্তীতে আমার প্রিয় দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলেও ক্ষমতা কী, ক্ষমতার সুবিধা কী—এসব কখনো আমার রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠেনি।

আমার সক্রিয় রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়েছিল এমন এক সময়ে, যখন আমার প্রিয় দল ক্ষমতার ধারেকাছেও ছিল না।

ইচ্ছে করলেই সুবিধাবাদী স্রোতের সঙ্গে নিজেকে ভাসিয়ে দিতে পারতাম। সময় ও পরিস্থিতির সঙ্গে আপস করে ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে পারতাম। কিন্তু নিজের আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে কখনো আপস করিনি।

বরং স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র, ভোটের অধিকার এবং মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি।

 

☞ দুঃসময়ে রাজপথের পথচলাঃ-

 

এই পথ কখনোই সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছরের রাজনৈতিক পথচলায় ঢাকা, বরিশাল, পটুয়াখালী থেকে শুরু করে নিজের এলাকা দুমকিতেও বহুবার হামলার শিকার হয়েছি। সহ্য করেছি মামলা, কারাবাস, পুলিশের নির্যাতন, হুমকি ও নানা ধরনের হয়রানি।
বহু রাত
কেটেছে আতঙ্ক, অনিশ্চয়তা ও নিদ্রাহীনতায়।

তবুও থামিনি।

নিজের কষ্টার্জিত অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে সংগঠনের দুঃসময়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। নিজের দায়িত্ববোধ থেকে সংগঠনকে ভালোবেসে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছি।

কারণ আমার কাছে রাজনীতি কোনো ব্যবসা ছিল না।
রাজনীতি ছিল বিশ্বাসের নাম।

 

☞ ২০১২–২০১৪: গণতান্ত্রিক অধিকারের আন্দোলনঃ-

 

২০১১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে।

এরপর নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে আমি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম।

২০১৪ সালের একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন প্রতিহত করার আন্দোলনেও হরতাল, অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছি।

তখনও লক্ষ্য ছিল একটাই—গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা।

 

☞ ২০১৮: রাজপথের নির্মম স্মৃতিঃ-

 

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, ২৭ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর দুমকির মুরাদিয়া পঞ্চায়েত বাজারে আমি হামলার শিকার হই।

সেদিন আমার ওপর যে হামলা হয়েছিল, সেই ভয়াবহ স্মৃতি আজও মনে দাগ কেটে আছে। হামলাকারীরা হাতুড়ি ও রড নিয়ে ৫/৭ জন একসাথে হায়নার মতো আমার ওপর আক্রমণ করে। ওই হামলায় আমার মেরুদণ্ডে সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে। সেই আঘাতের ক্ষত আজও বয়ে বেড়াতে হয়।

শরীরের আঘাত হয়তো একসময় সেরে যায়, কিন্তু কিছু ঘটনা মানুষের মনে স্থায়ী ক্ষত তৈরি করে। সেই দিনের ঘটনাও আমার রাজনৈতিক জীবনের তেমনই একটি গভীর ক্ষত।

তবুও সেই হামলা আমাকে ভেঙে দিতে পারেনি।

বরং আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছি—আদর্শের পথ কখনো ভয় পেয়ে ছেড়ে দেওয়া যায় না।

 

☞ ২৮ অক্টোবর ২০২৩: মৃত্যুভয়কে খুব কাছ থেকে দেখাঃ-

 

এরপর এলো ২৮ অক্টোবর ২০২৩।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবির আন্দোলনে অংশ নিতে মা-বাবাকে না জানিয়ে ঢাকায় গিয়েছিলাম।

পল্টনের কাছাকাছি একটি বাসার ছোট্ট একটি রুমে প্রায় ৩০–৩৫ জন সহযোদ্ধার সঙ্গে রাত কাটাতে হয়েছিল। এত মানুষের জন্য সেখানে কারও ঠিকমতো ঘুমানোর জায়গা ছিল না, কারও বসারও জায়গা ছিল না।

তবুও কারও মধ্যে ক্লান্তি ছিল না। ছিল শুধু আন্দোলনের প্রত্যয়।

এভাবেই কেটে গেল আরেকটি নিদ্রাহীন রাত।

পরদিন সকালে পার্টি অফিসের সামনে সমাবেশ শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়। শুরু হয় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ।

ADS Payra UP Election

চারপাশে টিয়ারশেলের ধোঁয়া, গুলির শব্দ, দৌড়াদৌড়ি আর আতঙ্ক।

সেই মুহূর্তে সত্যিই মনে হয়েছিল—

হয়তো আর বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়া হবে না।

জীবনে মৃত্যুভয় কতটা কাছ থেকে অনুভব করা যায়, সেদিন তা উপলব্ধি করেছি।

আজও ২৮ অক্টোবরের সেই রক্তক্ষয়ী দিনের কথা মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। চোখের সামনে ভেসে ওঠে সেই আতঙ্ক, সেই অনিশ্চয়তা এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত।

কিন্তু সেদিনও আদর্শ থেকে ফিরে আসিনি।

 

☞ ৪ আগস্ট ২০২৪: নিজের সন্তানকে আল্লাহর জিম্মায় রেখে রাজপথেঃ-

 

 

এরপর এলো ৪ আগস্ট ২০২৪।

দুমকিতে ছাত্র-জনতার গণমিছিলে অংশ নেওয়ার আগে জানতাম না সামনে কী অপেক্ষা করছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, সেটি আমরা সবাই উপলব্ধি করতে পারছিলাম।

একজন বাবা হিসেবে নিজের একমাত্র সন্তানকে আল্লাহর জিম্মায় রেখে সেদিন রাজপথে নেমেছিলাম।

সেদিন ফেসবুকে লিখেছিলাম—

“আজকে দুমকি ছাত্র-জনতার গণমিছিলে অংশগ্রহণ করবো, জানি না কখন কী ঘটে। একমাত্র সন্তান রেখে যাচ্ছি আল্লাহর জিম্মায়। ফিরে না আসলে দায়িত্ব আপনাদের।”

এই কথাগুলো কোনো নাটকীয় বক্তব্য ছিল না।

এটি ছিল একজন বাবার বুকের ভেতরের ভয়, একজন রাজনৈতিক কর্মীর দায়িত্ববোধ এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন উৎসর্গ করার মানসিক প্রস্তুতি।

পরিবার ও প্রিয় সন্তানকে আল্লাহর জিম্মায় সঁপে দিয়ে সেদিন রাজপথে নেমেছিলাম। মিছিল নিয়ে
দুমকি নতুন বাজারে আমরা পৌঁছানোর পরপরই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ইট ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। আমরাও তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করি। একপর্যায়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং যে যার মতো করে লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয় ।

৪ আগস্ট বিকেলে আমরা দুমকি উপজেলা আওয়ামী লীগমুক্ত করার দাবিতে রাজপথে অবস্থান নিয়েছিলাম। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দুমকি নতুন বাজার মোড়ে সহযোদ্ধাদের নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ মিছিল ও স্লোগান আজও আমার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়।

সেদিন আমরা জানতাম না সামনে কী হবে।

শুধু জানতাম— আমাদের মিছিলের সামনে আজকে যে-ই আসুক না কেন,
পিছিয়ে যাওয়া যাবে না।

পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

সেদিনের সেই উত্তাল সময় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। আর আমার মতো অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মীর জন্য সেটি ছিল দীর্ঘ সংগ্রাম, ভয়, ত্যাগ ও প্রত্যয়ের এক অবিস্মরণীয় পরিণতি।

আজ যখন পেছনে ফিরে তাকাই

আজ এতগুলো বছর পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়—রাজনীতিতে ব্যক্তিগত প্রাপ্তির খাতাটা সত্যিই খুব ছোট।

রাজনীতি থেকে কী পেলাম—এই হিসাব কখনো করিনি।

বরং নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি—
নিজের আদর্শের প্রতি কতটা সৎ থাকতে পেরেছি?
সংগঠনের জন্য কি করতে পেরেছি?

আমার রাজনৈতিক পথচলায় হয়তো সম্পদের পাহাড় গড়ে ওঠেনি।
ক্ষমতার সুবিধা ভোগ করার সুযোগ খুঁজিনি।
ব্যক্তিগত লাভ-লোকসানের হিসাবও করিনি।

বরং পেয়েছি—

হামলার স্মৃতি,
মামলার বোঝা,
কারাবাসের অভিজ্ঞতা,
নির্যাতনের ক্ষত,
নিদ্রাহীন রাত,
পরিবারের দুশ্চিন্তা,
আর মৃত্যুভয়কে খুব কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা।

তবুও কোনো আফসোস নেই।

কারণ আমি বিশ্বাস করি—

পদ-পদবি ক্ষণস্থায়ী।
ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী।
অর্থ-সম্পদও ক্ষণস্থায়ী।
কিন্তু আদর্শ, বিশ্বাস ও মানুষের ভালোবাসা—একজন রাজনৈতিক কর্মীর সবচেয়ে বড় অর্জন।
আমার চাওয়া আজও খুব বেশি নয়।

আমার প্রিয় দল ভালো থাকুক।

কারণ আমার কাছে রাজনীতি কোনো লাভের হিসাব নয়।

রাজনীতি মানে আদর্শ।
রাজনীতি মানে বিশ্বাস।
রাজনীতি মানে ত্যাগ।

জীবনের পথে কত বাধা আসবে, কত প্রতিকূলতা আসবে—তা জানি না। কিন্তু একটি বিশ্বাস আজও অটুট—

আদর্শের পথ দীর্ঘ হতে পারে, কঠিন হতে পারে; কিন্তু সত্যিকারের বিশ্বাস নিয়ে সেই পথে হাঁটলে একদিন না একদিন তার মূল্য মানুষই নির্ধারণ করবে।

আর আমি যতদিন রাজনীতিতে থাকব, নিজের আদর্শ এবং বিশ্বাসের প্রতি সৎ থাকার চেষ্টা করব—এটাই আমার অঙ্গীকার।

আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই পথে অটুট থাকার তাওফিক দান করেন।

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ✔ ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • ✔ আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ✔ ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -