BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

রূপালী ব্যাংকে এখনো ফ্যাসিস্ট ধারা অব্যাহত! কে এই এমডি কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

 

 

রূপালী ব্যাংক জনগণের ব্যাংক। আর জনগণের ব্যাংকের মাথায় এমন একজন ব্যক্তি বসে আছেন, যাকে ঘিরে এখন একটার পর একটা প্রশ্ন উঠছে—আর্থিক ব্যর্থতার প্রশ্ন, রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রশ্ন, প্রশাসনিক বৈষম্যের প্রশ্ন, বদলি-বাণিজ্যের প্রশ্ন, আর সবচেয়ে বড় কথা—রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা ধ্বংসের প্রশ্ন।

রূপালী ব্যাংকের এমডি কাজী ওয়াহেদুল ইসলাম বিএনপি ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে আছেন। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্বে থেকে ব্যাংকের জাতীয়তাবাদী তথা সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদের উপরে চালিয়ে যাচ্ছেন ফ্যাসিবাদী স্টীম রোলার।

তার বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি জুলাই হত্যা মামলার আসামি, ফ্যাসিবাদকে অর্থায়নের অভিযোগ, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দূরবর্তী স্থানে বদলি ও পদোন্নতি বঞ্চিত করা, রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমিতে অনিয়ম ও দুর্নীতি, ক্রীড়া পরিষদের নামে অর্থ উত্তোলন এবং আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের অভিযোগ। এছাড়া ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ব্যাংককে প্রায় ৬৩২ কোটি টাকার লোকসানের মুখে ঠেলে দিয়েছেন ব্যাংকটিকে।

রূপালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রশাসনিক বৈষম্য ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে স্মারকলিপি দেওয়ার পরপরই জাতীয়তাবাদী ঘরানার সংগঠন ‘জিয়া পরিষদ’-এর শীর্ষ তিন নেতাকে ঢাকার বাইরে বদলি করা হয়েছে।

সংগঠনটির অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ওই স্মারকলিপি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির এই শীর্ষ নেতাদের তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ জারি করে।

বদলি হওয়া নেতারা হলেন- সংগঠনটির আহ্বায়ক মো. গোলাম সারোয়ার, যাকে ফরিদপুরে বদলি করা হয়েছে, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ এস এম নিয়াজ মোর্শেদ, যাকে ময়মনসিংহে এবং সদস্যসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীকে কুমিল্লায় বদলি করা হয়েছে।

জিয়া পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মোট ১১ জন কর্মকর্তার বদলির আদেশে অন্যদের অবমুক্তির (রিলিজ) সময়সীমা ১৮ জুন উল্লেখ করা হলেও, এই তিন নেতাকে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একই আদেশে আওয়ামী লীগপন্থী সংগঠন ‘স্বাধীনতা ব্যাংকার্স পরিষদ’-এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক মীর আবু নাসের জয়কে ঢাকার মতিঝিল করপোরেট শাখায় বদলি করে আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৪ জুন রূপালী ব্যাংক জিয়া পরিষদের নেতারা অর্থমন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন। সেখানে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব, ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে তার অপসারণ দাবি করা হয়।

স্মারকলিপিতে দাবি করা হয়, ‘খারাপ ব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা ও দুর্নীতির’ কারণে ব্যাংকটি প্রায় ৬০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি ও ক্রীড়া কার্যক্রমের নামে তহবিলের অপব্যবহার, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পদোন্নতি ও পদায়ন এবং সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরোধিতাকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি করার অভিযোগও আনা হয়।

সংগঠনটির আরও দাবি, বর্তমান এমডি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও বিএনপি ঘরানার আদর্শের সাথে যুক্ত কর্মকর্তারা বদলি, পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হওয়া এবং নানামুখী হুমকির শিকার হচ্ছেন।

জিয়া পরিষদের নেতারা ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওয়াহিদুল ইসলামের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- ব্যাংক প্রশাসনের পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত থেকে ‘ফ্যাসিবাদী প্রভাব’ দূর করা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের উপযুক্ত পদে পদায়ন করা।

সংগঠনটির অভিযোগ, স্মারকলিপি প্রদান এবং তা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর সম্পূর্ণ প্রতিশোধমূলকভাবে এই সাম্প্রতিক বদলির আদেশ জারি করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলেন, রূপালী ব্যাংকে এমডির নিজস্ব পেটোয়া বাহিনী রয়েছে। এদের মাধ্যমেই তিনি কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। মাধ্যমে প্রমোশন ও বদলী বাণিজ্য করে হাতিয়ে নিচ্ছেন অবৈধ অর্থ। এর নেতৃত্বে আছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা মতিঝিল কর্পোরেট শাখার মতো ব্রাঞ্চের ডিজিএম সাখাওয়াত হোসেন, সাবেক ফ্যাসিবাদী এমডি মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদের এপিএস শফিকুল ইসলাম (বর্তমানে এমডির পিএস), বঙ্গবন্ধু পরিষদ সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারি মোঃ আশরাফুল ইসলাম, এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত বঙ্গবন্ধু পরিষদের মুক্তিযুদ্ধ গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান টুটুল, প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে চার্জশিট প্রাপ্ত আসামী রাশেদ, ওসমান গনি প্রমুখ। সাবেক এমডি মোঃ ওবায়েদ উল্লাহ আল মাসুদ পরবর্তীতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন। দূর্নীতির দায়ে বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

সাধারণ কর্মকর্তা কর্মচারীদের দাবী, রূপালী ব্যাংকের চেয়ারে বসা মানুষটির আসলে কাজ কি? দমন-পীড়ন নাকি ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়ন? তারা ব্যাংকে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে যোগ্য ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ চায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থা পরিচালক (এমডি) কাজী মো. ওয়াহিদুল ইসলাম এর কাছে ফোন দিলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি আর রিসিভ করেননি।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »