বগুড়ার কাহালু উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন বিপ্লব প্রামাণিক (৩০) নামের এক যুবক। এ সময় অভিযুক্তরা আটক হওয়া এক মাদক কারবারিকে এবং তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মাদক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নারহট্র সর্দারপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। আহত বিপ্লব প্রামাণিক ওই এলাকার নারহট্র খুলুপাড়ার মো. বুলু প্রামাণিকের ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিপ্লব প্রামাণিক বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে এলাকার চিহ্নিত ৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন: মো. মঞ্জু মিয়া (৪৫), মো. রাশেদ (৪০), মো. রঞ্জু (৫০), মোছা. চম্পা বেগম (৪০) এবং মোছা. পুন্নু বেগম (৪৫)। তারা সবাই কাহালু থানার নারহট্র সর্দারপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১ নম্বর অভিযুক্ত মো. মঞ্জু মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজ বাড়িতে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এতে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংসের মুখে পড়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী টিম গঠন করা হয়। ওই টিমের সদস্য ছিলেন বিপ্লব প্রামাণিকসহ গ্রামের ছানোয়ার হোসেন, শাহীন আলম ও জাকির হোসেন।
আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযুক্ত মঞ্জু মিয়া সর্দারপাড়া মসজিদ মোড়ে মাদক বিক্রি করছিলেন। এ সময় বিপ্লব প্রামাণিক তাকে ৭ পাতা ট্যাফেন্টাডলসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন। খবর পেয়ে অন্য অভিযুক্তরা সেখানে এসে বিপ্লবের কাছ থেকে জোরপূর্বক মাদক ও মঞ্জু মিয়াকে ছিনিয়ে নেন।
এ সময় অভিযুক্তরা বিপ্লবকে লাঠিসোটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে মঞ্জু ও চম্পা বেগমের হাতে থাকা বটির কোপে বিপ্লবের বাম হাতের বাহু কেটে জখম হয়। এ ছাড়া ২ নম্বর অভিযুক্ত রাশেদ লাঠি দিয়ে তার ডান হাতের কব্জিতে এবং ৩ নম্বর অভিযুক্ত রঞ্জু বাম হাঁটুর নিচে আঘাত করে জখম করেন। চলে যাওয়ার সময় তারা তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত বিপ্লব প্রামাণিককে উদ্ধার করে কাহালু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাহালু থানা পুলিশ জানায়, এ সংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
