ইন্দোনেশিয়ায় আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দেশটির ফ্লোরেস অঞ্চলে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার নতুন ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এর আগে একই এলাকায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর শত শত পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছিল। ফলে নতুন এই কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে আবারও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪৬ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় ফ্লোরেস এলাকায় ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। জার্মানির ভূতত্ত্ব গবেষণা সংস্থা জিএফজেড জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস ভূমিকম্পটির তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯। এর উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতায় সংঘটিত হওয়ায় তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পও কাছাকাছি এলাকায় বেশ শক্তিশালীভাবে অনুভূত হতে পারে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ফ্লোরেস অঞ্চলটি ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত। অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ হওয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক শক্তিশালী কম্পনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এর মাত্র দুই দিন আগে, গত ১৫ আগস্ট শনিবার একই ফ্লোরেস এলাকায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। বড় ওই ভূমিকম্পের পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সংখ্যক পরাঘাত বা আফটারশক শুরু হয়। জিএফজেডের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সেখানে অন্তত ৩৪১টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়।
৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে ৫ দশমিক ৯ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হওয়ায় ফ্লোরেস অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বড় ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক হওয়া স্বাভাবিক হলেও, নতুন করে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়।
শুধু ফ্লোরেস নয়, একই সময়ের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার অন্য এলাকাতেও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত শনিবার ফ্লোরেসের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর দেশটির উত্তর সুমাত্রা প্রদেশে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর সুমাত্রার ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল পেমাতাংসিয়ানতার শহরের প্রায় ৭ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৮৩ দশমিক ২ কিলোমিটার গভীরে।
পরপর কয়েকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আফটারশকের ঘটনায় ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে নতুন করে সতর্কতা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত নতুন এই ৫ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।
