যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আটককেন্দ্রে তোলা দুটি ছবিতে ধূসর ট্র্যাকস্যুট পরা মাদুরোকে দুই হাতে ভি-চিহ্ন দেখাতে দেখা গেছে। ছবিগুলো প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার বর্তমান পরিস্থিতি।
রোববার, ৩০ আগস্ট ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়। তবে ছবির টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, এগুলো গত ২৫ জুন তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রে আটকের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই প্রথম মাদুরোর কোনো ছবি প্রকাশ্যে এলো।
জানা যায়, জানুয়ারিতে কারাকাসে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। পরে তাদের যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়।
মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তারা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আসছেন।
ছবি প্রকাশের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে স্প্যানিশ ভাষায় একটি বার্তাও দেন মাদুরো। সেখানে তিনি তার নাতি-নাতনি, সন্তান এবং যারা তাদের ভালোবাসেন—তাদের উদ্দেশে ছবিগুলোকে একটি ছোট উপহার হিসেবে উল্লেখ করেন।
মাদুরো তার বার্তায় জানান, তারা দৃঢ় আছেন এবং তাদের হৃদয় মানুষের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তারা শক্ত, শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী থাকবেন এবং ঈশ্বর তাদের সঙ্গে আছেন।
প্রকাশিত দুটি ছবিতে মাদুরোকে ধূসর রঙের ট্র্যাকস্যুট পরা অবস্থায় দেখা যায়। দুই হাত তুলে তিনি ভি-চিহ্ন প্রদর্শন করছেন। তবে তাকে আটকের আগের সময়ের তুলনায় ছবিতে বেশ কিছুটা ওজন কমেছে বলেও মনে হচ্ছে।
তবে ছবিগুলো আসল কি না এবং আটককেন্দ্রের অনুমতি নিয়েই এগুলো প্রকাশ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এএফপি জানিয়েছে, বিষয়টি নিশ্চিত করতে তারা সংশ্লিষ্ট আটককেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, মাদুরোর উত্তরসূরি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুমতি দিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ তেল চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার মাত্র দুই দিন পর মাদুরোর এই বার্তা প্রকাশ্যে আসে।
ফলে মাদুরোর প্রকাশিত ছবি ও বার্তাকে ঘিরে শুধু তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতিই নয়, ভেনেজুয়েলা-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
