BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

সন্তান বিক্রি করে আইফোন! এক লাখ টাকায় বিক্রি হওয়া সেই শিশুপুত্র উদ্ধার

পটুয়াখালীর দশমিনায় দেড় বছরের শিশুপুত্রকে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে আইফোন কেনার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে নিজের শিশুসন্তানকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে অন্যের কাছে বিক্রি করে ঢাকায় চলে যান ওই ব্যক্তি। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত বাবাকে আটক করার পাশাপাশি শিশুটিকেও উদ্ধার করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বড় গোপালদী গ্রামে। অভিযুক্ত বাবার নাম মো. মারুফ মুন্সি।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৮টার দিকে মারুফ তার মা ও শিশুটির দাদি মাহমুদা বেগমকে ছেলে মুসাকে জামাকাপড় পরিয়ে দিতে বলেন। এরপর বাজারে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে দেড় বছরের শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন তিনি।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাবা-ছেলে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। একপর্যায়ে মারুফের মামা বাহাদুর মিয়ার মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পরিবারের সদস্যদের কাছে মারুফ স্বীকার করেন, তিনি তার ছেলে মুসাকে আলীপুর ইউনিয়নের রামনাথসেন গ্রামের ইমরান হোসেনের কাছে এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। সন্তান বিক্রির টাকা নিয়ে তিনি দ্রুত ঢাকায় চলে যান এবং পুরোনো ফোন বদলে একটি নতুন আইফোন কেনেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপর হয় পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত মারুফ ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। এরপর দশমিনা থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারুফ সন্তান বিক্রির কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা শুরু হয়।

পুলিশ ইমরান হোসেনকে থানায় ডেকে এনে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করলে তিনিও শিশুটিকে কোথায় রাখা হয়েছে সে বিষয়ে তথ্য দেন। ইমরান জানান, শিশুটিকে গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নে তার শ্বশুর মাহাবুব গাজীর বাড়িতে রাখা হয়েছে।

পরে রোববার রাত ১০টার দিকে ইমরানের শ্বশুর মাহাবুব গাজী শিশুটিকে নিয়ে দশমিনা থানায় আসেন। এ সময় পুলিশ দেড় বছরের শিশু মুসাকে উদ্ধার করে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদ হাসানের উপস্থিতিতে উদ্ধার হওয়া শিশুটিকে তার দাদা মফিজ মুন্সী ও দাদি মাহফুজা বেগমের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আতিকুল ইসলাম জানান, মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরেছেন এমন খবর পেয়ে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিশুটিকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে শিশুটিকে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে এক লাখ টাকায় হস্তান্তর করা হয়েছিল, এর পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব বিষয় পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে।

প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »