মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি। তিন দেশের এই সামরিক সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মতে, এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের এক প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এ মন্তব্যের কথা জানানো হয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো ধীরে ধীরে আরও ঘনিষ্ঠভাবে একত্রিত হচ্ছে। তার ভাষায়, এই ধরনের সমঝোতার মাধ্যমে দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা আরও বাড়াতে পারবে।
চলতি আগস্টের শুরুতেই সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তিটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—জোটের কোনো একটি দেশের ওপর বহিঃশত্রুর সামরিক হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। সে ক্ষেত্রে আক্রান্ত দেশকে রক্ষায় অন্য দুই দেশও যৌথভাবে সামরিক প্রতিক্রিয়ায় অংশ নেবে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তি তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতার পরিধি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন একটি সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং সৌদি আরব ও পাকিস্তানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান। ফলে এই তিন দেশের সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতিতে নতুন প্রভাব তৈরি করতে পারে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে তিন দেশের সামরিক সক্ষমতা, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সমন্বয় আরও জোরদার হতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় প্রচলিত নিরাপত্তা কাঠামোর বাইরে নতুন একটি আঞ্চলিক সামরিক বলয়ের সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।
এদিকে এই জোটে ভবিষ্যতে আরও দেশ যুক্ত হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি জানিয়েছিলেন, মিসরসহ আরও কয়েকটি মুসলিমপ্রধান দেশ ভবিষ্যতে এই ধরনের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।
তবে জোটটি ভবিষ্যতে কতটা বিস্তৃত হবে এবং এর সামরিক সহযোগিতা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, সেটিই এখন নজরের বিষয়। এরই মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের এই প্রতিরক্ষা সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
