জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের প্রথম দিনেই ১০টি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসব কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট, আঞ্চলিক সহযোগিতা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই দিনে ভুটান, মালদ্বীপ ও তুরস্ক সফরের আমন্ত্রণও পেয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের ডিপ্লোম্যাট সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রথম দিনের নির্ধারিত ১২টি কর্মসূচির মধ্যে সময়স্বল্পতার কারণে দুটি বাদে বাকি ১০টিতে প্রধানমন্ত্রী সশরীরে অংশ নেন। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া তাঁর কর্মসূচি চলে রাত পর্যন্ত।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত স্বাগত প্রাতঃরাশে অংশ নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। পরে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে এবং মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট হুসাইন মোহাম্মদ লতিফের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের কথা জানানো হয়।

এদিকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডির সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তাও আলোচনায় আসে।
উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও ব্যস্ততা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কর্মসূচি ছিল। সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ইউরোপীয় কাউন্সিল ও মেটার সঙ্গে নির্ধারিত দুটি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থাকতে পারেননি। মেটার সঙ্গে বৈঠকে তাঁর পরিবর্তে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
প্রথম দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, বহুপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়, রোহিঙ্গা সংকট এবং উন্নয়ন সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের স্বার্থ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ‘৩৬০ ডিগ্রি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক কৌশল’—এটি তাঁর নিজের মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করেছেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটিই হবে তাঁর প্রথম ভাষণ।
