BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

দুমকিতে এডিএস এর উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের পদক প্রদান

কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধিঃ

 

 

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঠারগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি-এডিএস এর উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়।
বৃহস্পতি বার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আঠারগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা অডিটোরিয়ামে এ পদক প্রদান ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে    কৃতি শিক্ষার্থীদের পদক প্রদান করে আঠারগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্য  প্রেসক্লাব দুমকির সাধারন সম্পাদক  প্রকৌশলী মোঃ কামাল হোসেন
আঠারগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাও. আবু সালেহ এর সভাপতি অনুষ্ঠিত সভায় এ  উপস্থিত ছিলেন  আবদুস সালাম সিকদার, আব্দুল হাই সিকদার প্রমুখ।
মাদ্রাসার সহ সুপার মাও, মাসুমবিল্লাহ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ক্বারী আবু বকর সিদ্দিক, মোসাঃ হুমায়রা আক্তার ও মাও মাহবুব আলম।
এসময় মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবকবৃন্দ সহ সকল শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত বার্ষিক পরীক্ষায় প্রতি শ্রেনীতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের সিরাজ উদ্দিন আহমেদ স্মৃতি পদক প্রদান ও সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়।
দোয়া মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফেজ মোঃ অলিউল্লাহ।
কে এই সিরাজ উদ্দি আহমেদ?
পটুয়াখালী জেলাধীন দুমকি উপজেলার  ২নং লেবুখালী ইউনিয়নের আঠারো গাছিয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিকদার বংশে ১৯০০ সালে সিরাজ উদ্দিন আহমেদ জন্ম গ্রহন করেন ।
১৯১৮ সালে অত্র অঞ্চলে গণিত ও আরবী দুই বিষয় লেটার মার্কস নিয়ে ১ম বিভাগে মেট্রিক
পাশ করেন।
বৃটিশদের শাসন আমলে পটুয়াখালীতে সরকারী চাকুরীরত অবস্থায়  তিনি আঠারোগাছিয়া  ইউনিয়ন বোর্ডের দুই দুই বার প্রেসিডেন্ট  নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন।
বরিশাল হতে রাস্ট্রীয় অধিগ্রহণ দপ্তরের সহকারী ব্যবস্থাপক হিসাবে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন ।
সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হয়ে  বরিশাল বগুড়া রোডের নিজ বাসায় ১৯৮২ সালের ২ফেব্রুয়ারি  ইন্তেকাল করেন।
মৃত্যুর সময় তিনি ৫ পুত্র ও ৪ কন্যা সন্তান সহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন । তার প্রত্যেকটি সন্তান কে তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। যারা আজ দেশের গন্ডি পেরিয়ে উন্নত দেশগুলোতেও তাদের মেধা ও যোগ্যতার মান অক্ষুন্ন রেখে চলছেন।

মোঃ সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এর বড় ছেলে এমএম আব্দুল কাইয়ুম( সাহজাহান) বরিশাল প্রেসক্লাবের একটানা ১৪ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর করোনয় আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর সোবাহান বাগে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। এমএম আব্দুল কাইয়ুম এর একমাত্র ছেলে সিনা কাইয়ুম ইউকে ইউনিভার্সিটি থেকে মাস্টার্স লেভেলে  স্নাতক  ডিগ্রী অর্জন করেন।  তিনি ইংল্যান্ডে একজন সিনিয়র সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত আছেন। দুই মেয়ের মধ্যে  নিনা রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তালিকাভুক্ত একটি ইনভেস্টমেন্ট ফার্মে কর্মরত আছেন। ছোট মেয়ে লিপিকা কাইয়ুম বাংলাদেশে একজন স্বনামধন্য চিকিৎসক ।
২য় ছেলে এমএম আব্দুল হাই (আলমগীর)  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয থেকে পাশ করে, বিএম কলেজের প্রফেসর পরে   মাধ্যমিক ও উচচশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও উপ পরিচালকের পদে চাকুরী করেন । গনশিক্ষা অধিদপ্তর থেকে চাকুরী শেষে  ঐচ্ছিক অবসর গ্রহন করেন। পরে নিজেকে একজন সফল ব্যাবসায়ী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মোমেনটাম মিডিয়া লিঃ এর চেয়ারম্যান ও ফার্মাশিয়া ফার্মাসিউটিক্যাল এর ভাইস চেয়ারম্যান। এমএম  আব্দুল হাই (আলমগীর) বরিশালের মল্লিকা কিন্ডার গার্ডেন এর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি শব্দাবলী গ্রুপ থিয়েটর এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও হিন্দোল ললিতকলা বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক। ঢাকায় বরিশাল এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারন সম্পাদক ছিলেন। তার দুই সন্তানই আমেরিকার টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে, ছেলে হাসান মেহেদি হাই কম্পিউটার সায়েন্স ও মেয়ে তনুজা হাই শৈলী ফিজিক্স এ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। দুজনেই  আমেরিকায় গুরুত্বপুর্ন পদে চাকুরি করেন ।
৩য় ছেলে এমএম আবদুর রহীম (জাহাঙ্গীর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করে লন্ডন চাকরি করেন সেখানেই স্থায়ী হয়ে বসবাস করে আসছেন। এমএম আবদুর রহীম (জাহাঙ্গীর) এর ২ছেলে  জন্ম সূত্রেই যুক্তরাজ্যের নাগরিক।
৪র্থ এমএম আবদুল্লাহ  (নাসিম)  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয থেকে  ফার্মেসি বিভাগে অনার্স মাস্টার্স পাশ করেন।  ফার্মেসি কাউন্সিল এর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন, তারপর প্রথমে জার্মানী পরে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার একমাত্র  সন্তান জন্ম সূত্রেই আমেরিকার নাগরিক
সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এর ছোট ছেলে এমএম আব্দুল আলিম ( বাচ্চু) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পুরকৌশল বিভাগে পাশ করেন। তিনি বুয়েট এর প্রধান প্রকৌশলী পদ থেকে অবসর গ্রহন করে আমেরিকায় বসবাস করছেন।
মোঃ সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এর ৪কণ্যা সন্তান তারাও ছিলো উচ্চ শিক্ষিত।
বিএম কলেজের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক আব্দুল মান্নান এর সাথে তার প্রথম কণ্যার বিবাহ হয়।
২য় কণ্যা সালেহা খানম এর বিবাহ হয়েছে মির্জাগঞ্জের সন্তান এ্যাডভোকেট নুরুল হক এর সাথে।।  এ্যাডভোকেট নুরুল হক  তৎকালীন সরকারের প্রথম শ্রেনীর কর্মকর্তা পদে চাকুরী ইস্তেফা দিয়ে আইন পেশায় নিজেকে নিয়োজিত করেন। তিনি এমএলএ ছিলেন। সালেহা খানম রত্মগর্ভা উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন।
৩য় কণ্যা আনজুমান আরা খানম এর বিবাহ হয় বিএম কলেজের প্রথম নির্বাচিত জিএস, ভাষা সৈনিক   আবদুস সাত্তার খানের সাথে । আবদুস সাত্তার খান নরসিংদি কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। আনজুমান আরা খানমও বরিশাল সদর গার্লস স্কুল ও নরসিংদি সাটিরপাড়া গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন । স্বামী স্ত্রী দুজনেই উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করতে লন্ডনে চলে যান।  আনজুমান আরা খানম লন্ডনে শিক্ষকতা করেন।
ছোট কণ্যা কামরুন্নেছা, বিবাহ হয় কুমিল্লার সন্তান প্রকৌশলী কাজী সোলায়মান আহমেদ এর সাথে। প্রকৌশলী কাজী সোলায়মান আহমেদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী হিসাবে অবসর গ্রহন করেন।
সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ৮০শতক জমি দান করে
তার বাড়ির পাশে প্রতিষ্ঠা করেন আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা।

Pearl IT
ওয়েব ডিজাইন
গ্রাফিক্স ডিজাইন
কন্টেন্ট পাবলিশিং
এসইও সার্ভিস
অর্ডার করুন »