দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দুমকিতে সরকারি রেকর্ডীয় হালট দখল করে পারিবারিক কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মানের অভিযোগ উঠেছে দুমকি উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জব্বার সিকদারসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে স্থানীয় এক সাংবাদিক পরিবারের দীর্ঘদিনের চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্তদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলার ২নং লেবুখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের আঠারগাছিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কামাল সিকদার পরিবারের অভিযোগ, আঠারগাছিয়া মৌজার জেএল-২৩, খতিয়ান নং ২ এর ২নং সিটে ১৫০২ নং দাগটি সরকারি রেকর্ড হিসেবে চিহ্নিত জমি, দখল করে কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হচ্ছে। এতে তাঁদের বাড়িতে যাতায়াতের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুমকি উপজেলা বিএনপির ত্রান ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক আবু সালেহ খোকন ও ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইফুল্লাহ সহ অনেকেই দাঁড়িয়ে থেকে দেয়াল নির্মানের কাজ করাইতেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আঠারগাছিয়া মৌজার ১৫০২ নম্বর প্লটের সরকারি হালটটি কার্তিকপাশা ও আঠারোগাছিয়া গ্রামের জন সাধারনের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই সরকারি হালটের “দক্ষিন আঠারগাছিয়া বায়তুল হাসান জামে মসজিদের” উত্তর পাশ দিয়ে ২০ শতকের মতো জমি কবরস্থানের সীমানার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী কামাল সিকদার অভিযোগ করে বলেন আবদুর জব্বার সিকদার এর পুর্ব পুরুষদের সরকারি হালটে কবরস্থ করার মধ্যদিয়ে এ দখলের সূচনা করে। এখন দলীয় প্রভাব খাটিয়ে প্রচীর নির্মান করে পুরাপুরি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি ভুমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন এ হালটের জমি ২নং খতিয়ানের এর মালিক ইউনিয়ন পরিষদ, তারপরও অভিযোগ পেয়ে আমি সরেজমিনে লোক পাঠিয়েছি। পরে জরুরী সেবা ৯৯৯ কল করলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে দিয়ে উভয় পক্ষকে বসে মিমাংসা করার কথা বলে।
তিনি প্রশানের নিকট দাবী করেন যেহেতু জমিটি সরকারি রেকর্ডে হালট হিসাবে চিহ্নিত তাই জন সাধারনের চলাচলের জন্য অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে তাদের চলাচলের পথ নিশ্চিত করা হউক।
তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার না করে জমিটির মালিকানা ও ব্যবহারের বিষয় অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল জব্বার সিকদার ও তার ভাই আবু সালেহ খোকন বলেন সরকারি হালট হলেও জায়গাটি তাঁদের বাপদাদার আমলের পারিবারিক কবর স্থান, তাই পারিবারিক কবরস্থান রক্ষায় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা তাঁদের নৈতিক দায়িত্ব।
স্থানীয়দের মতে, সরকারী জমির প্রকৃত অবস্থান নির্ধারন এবং জনসাধারনের চলাচলের পথ নিশ্চিত করতে ভুমি প্রশাসনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
