লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
‘আর নয় বিদ্বেষ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্যে লালমনিরহাটে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা করেছে ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।
শনিবার (০৭ নভেম্বর) দুপুরে জেলার মাটি-মায়া মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মসিউর রহমান।
এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার জন্য। এ দেশে জন্মগ্রহণকারী প্রত্যেক মানুষের শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস, মতপ্রকাশ, ধর্মীয় বিশ্বাস ধারণ এবং নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করার অধিকার রয়েছে। এগুলো একজন নাগরিকের মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার। একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা মানুষের বাক স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার খর্ব হচ্ছে।
অথচ ধর্ম-বর্ণ-দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেকের বাক্স্বাধীনতা, চলাফেরার স্বাধীনতা ও সংগঠন করার অধিকার দেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত। এসব অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েই ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’ দেশব্যাপী কার্যক্রম শুরু করেছে। এ অগ্রযাত্রায় উপস্থিত সবাইকে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর আব্দুল কুদ্দুস শামীমের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শফিকুল ইসলাম কানু, অ্যাডভোকেট চিত্ররঞ্জন রায় মন্টু, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক বুলু, বীরমুক্তিযোদ্ধা লূৎফর রহমান, বাসন্তিকা সম্পাদক পিকে বিক্রম, হিন্দু বৌদ্ধ ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক গোপাল বর্মন, বগুড়া ক্লিনিকের চেয়ারম্যান ডা: আমিনুর রহমান, ঈশ্বরের মন্ডলের পালক সচ্চিদা নন্দ বর্মন, লালমনিরহাট থিয়েটারের সভাপতি আব্দুল জব্বার, রতনাই থিয়েটারের সভাপতি দেওয়ান রফিকুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী সমিতির চেয়ারম্যান মনসুর আলী সরকার, লালমনিরহাট ডায়াবেটিস সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বকুল, সাংবাদিক এসকে শাহেদ, জননী নারী কল্যাণ সেবা সংস্থার সভাপতি ড. নাজিরা পারভিন, লালমনিরহাট পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সুজাতা বেগম, সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জামাল হোসেন, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মধুসূদন রায়, নাট্যকার মাখন লাল দাস এবং ঝংকার শিল্পগোষ্ঠীর সভাপতি জমিদার রায়, বাউল শিল্পী চান মিয়া, মাইজভান্ডারীর লালমনিহাট জেলা সভাপতি মিনহাজ আলী ভান্ডারীসহ জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।
পরে উপস্থিত সবার সর্বসম্মতিক্রমে বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. শফিকুল ইসলাম কানুকে আহ্বায়ক এবং সংগঠক লুৎফর রহমানকে সদস্যসচিব করে সাত সদস্যবিশিষ্ট জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় উপস্থিত ব্যক্তিরা সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে উগ্রবাদমুক্ত শান্তিপূর্ণ সমাজ তথা রাষ্ট্র বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
