প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বানচালের কোনো অপকৌশল কি না, তা খতিয়ে দেখতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, এগুলোর মধ্য দিয়ে সারা দেশে একটা অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা যায় কি না বা এর পেছনে কোনো পরিকল্পনা কিংবা অপকৌশল আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। আজ শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত জুলাই অভ্যুত্থানের মুখ শরিফ ওসমান বিন হাদি বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে মধ্যরাতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালায়। উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে প্রচার চালাচ্ছিলেন। হাদিকে হত্যার পেছনে অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জড়িত বলে তার সমর্থকদের অভিযোগ রয়েছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি এই ধরনের হামলা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনাও করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, এখানে সরকারের সমালোচনা করতে চাই। এটা আন্দাজ করা উচিত ছিল, গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকা উচিত ছিল এবং আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। বিশেষ করে দুর্বৃত্তরা আগে থেকেই কয়েকটা ‘টার্গেট প্লেস’ ঠিক করেছে, যা আমরা দেখেছি। তবে এ ধরনের কার্যকলাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ নিয়ে কোনো কোনো ষড়যন্ত্র বা নীলনকশা থাকতেও পারে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে নিরাপত্তাজনিত যেসব বিষয় আছে, সেগুলো নিয়ে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করছে এবং সরকারও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে। তিনি জানান, আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তারেক রহমানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে এবং রাজধানীর ৩০০ ফুট এলাকায় সেই অনুষ্ঠান হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।