বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) ভোট ব্যবস্থা চালু হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দেশের জনগণ। কোনো দলের দাবির ভিত্তিতে বা কয়েকটি মিছিল-সমাবেশ করে এই ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অর্পণ আলোক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন’ শীর্ষক এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “কেউ বলছেন, ‘পিআর চাই’। ঠিক আছে, কিন্তু এটা তো জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা কে কয়টা রাস্তায় মিছিল করলাম বা হাজার দু-তিনেক লোক নিয়ে সভা করলেই কি পিআর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে?”
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনি ইশতেহারে নিজেদের দাবি তুলে ধরে জনগণের রায় নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনগণ যদি আপনাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দেয়, আপনারা সেটা বাস্তবায়ন করবেন। এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।”
নতুন করে সংকট তৈরি না করার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “আসুন আমরা আর কোনো সংকট সৃষ্টি না করি। ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য গঠিত হয়েছে, তাকে সমুন্নত রেখে আমরা গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখব এবং একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করব।”
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র প্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “সরকারের দায়িত্বে আসাটা তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত হয়নি। এর ফলে তারা ‘প্রেসার গ্রুপ’ হিসেবে ভূমিকা রাখার সুযোগ হারিয়েছে এবং এখন সরকারের সব দায় তাদের কাঁধে নিতে হচ্ছে।”
জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা যদি সরকার গঠন করার বিষয়ে এতোই আত্মবিশ্বাসী হয়, তাহলে নির্বাচনে আসে না কেন? নানা অজুহাতে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যটা কী?”
তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলের সঙ্গে জামায়াতের যুগপৎ আন্দোলন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের নীতির সমালোচনা করেন।
সালাহউদ্দিন বলেন, বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাস্তায় নামার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার আছে। কিন্তু যখন বিষয়গুলো আলোচনার টেবিলে নিষ্পত্তির অপেক্ষায়, তখন রাস্তায় নেমে চাপ সৃষ্টি করা হলে পাল্টা চাপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তিনি বলেন, “আমরা আলোচনার টেবিলেই নিষ্পত্তি চাই। গণতান্ত্রিক চর্চায় মতভিন্নতা থাকবে, কিন্তু তার সমাধান হবে আলোচনা।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ফলে দেশে দুটি সংবিধান কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এই নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হলে তার সুবিধাভোগী হবে অসাংবিধানিক শক্তি ও পতিত স্বৈরাচার।” তিনি আরও বলেন, তৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই রাষ্ট্রপতির পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের মতামত চাওয়ার এখতিয়ার ছিল, কারণ প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “কোনো দলের দাবি জাতির ওপর জবরদস্তি করে চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। গণপরিষদ বা অন্য কোনো বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” সালাহউদ্দিন আরও বলেন, গণতন্ত্রবিহীন অবস্থা থেকে উত্তরণে সময় লাগবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমেই একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বিনির্মাণ সম্ভব।
অর্পণ আলোক ফাউন্ডেশনের সভানেত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আবদুস সালাম, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা।