মাদারীপুরে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে মসজিদের ইমামের থাকার ঘর, মহিলা মাদ্রাসা ও একটি পরিত্যক্ত ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের হোগলপাতিয়া এলাকায় একটি মসজিদের ইমামের থাকার ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কেউ হতাহত হননি। ধারাবাহিক এসব বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং ঘটনাগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আল-আকসা আকন বাড়ি জামে মসজিদের পাশের ইমামের থাকার ঘর থেকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কিছু অংশ উড়ে যায়। শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মসজিদের সামনে জড়ো হন। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরণের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মসজিদের ইমাম আকাশ হাওলাদার গত পাঁচ দিন ধরে অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ফলে বিস্ফোরণের সময় তিনি মসজিদে ছিলেন না। তার থাকার ঘরের চাবি মসজিদের মুয়াজ্জিন মো. আলাউদ্দিন ওলিল আকনসহ মসজিদ কমিটির তিন সদস্যের কাছে ছিল বলে জানা গেছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা বলেন, মসজিদের ইমামের ঘরের বারান্দায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমার আলামত সংগ্রহ করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, বিস্ফোরণের ঘটনায় ইমামের থাকার ঘরের টিনের বেড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি। বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত করা হচ্ছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি নিয়ে গত ১৭ দিনে মাদারীপুরে তিনটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৬ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
এরও আগে গত ১৫ আগস্ট কালকিনি পৌর এলাকার একটি মহিলা মাদ্রাসায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় মাদ্রাসাটির পাঁচ শিশুশিক্ষার্থী আহত হয়।
অল্প সময়ের ব্যবধানে একটি মহিলা মাদ্রাসা, একটি পরিত্যক্ত ঘর এবং একটি মসজিদের ইমামের থাকার ঘরে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ এসব ঘটনার পেছনে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয় নিশ্চিত করেনি।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাগুলো পরস্পর সম্পর্কহীন বা বিচ্ছিন্ন হতে পারে। স্থানীয় বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার কিংবা সামাজিক দ্বন্দ্বের জেরে এসব ঘটনা ঘটেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
একই সময়ে একই জেলায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা কাটাতে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার দাবি উঠেছে। পুলিশও বলছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে।
