জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র আরও শক্তিশালী হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে বা তাদের অধিকার ও মতপ্রকাশের সুযোগ সীমিত করে কোনো রাষ্ট্রই প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হতে পারে না। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্ত অবস্থানে নেওয়াই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে লিজ দেওয়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও নিশ্চিত করা জরুরি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, প্রকৃত উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে একদিকে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে মানুষের জীবনযাত্রায় নিরাপত্তা আসবে এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। এ কারণে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
বিদেশি বিনিয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই বাংলাদেশে আসবে এবং সরকার তা চায়। তবে দেশের নিজস্ব উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদেরও সমানভাবে উৎসাহিত করতে হবে। ব্যবসা ও বিনিয়োগ পরিচালনার ক্ষেত্রে সরকারের যে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে সবাই এখন যে অবস্থায় আছে, তার থেকে ভালো থাকবে। এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।’
সরকারের নীতির মূল লক্ষ্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা—এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবার সহযোগিতায় একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের দায়িত্ব নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সফলভাবে পরিচালিত হবে এবং এর ফলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা।
অনুষ্ঠানে বিজেএমসি এবং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
