ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের একটি গ্রামে ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। একই ওষুধ খাওয়ার পর আরও ৫৩ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে তেলেঙ্গানার একটি হাসপাতালে এবং ২৪ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেঙ্গানা সীমান্তসংলগ্ন পোলভরম জেলার গোল্লাগুপ্পা গ্রামে মোট ৭১ জন বাসিন্দাকে ম্যালেরিয়ার ওষুধ ক্লোরোকুইন দেওয়া হয়েছিল। ওষুধ খাওয়ার পর তাদের বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অসুস্থদের মধ্যে ২৯ জনকে তেলেঙ্গানার একটি হাসপাতালে এবং ২৪ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীর মৃত্যু হয়।
ক্লোরোকুইন একটি অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধ, যা ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা ও প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে এই ঘটনায় ওষুধ সেবনের পর কেন এত সংখ্যক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়লেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা সংগ্রাহক দিনেশ কুমার জানিয়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রোগীদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। এ ঘটনায় আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর নির্দেশে কাকিনাড়া সরকারি সাধারণ হাসপাতাল থেকে নয় সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল গোল্লাগুপ্পা গ্রামে পৌঁছেছে। পাশাপাশি বিজয়ওয়াড়া ও রাজামহেন্দ্রভরম থেকে আরও তিনটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল সেখানে গিয়ে চিকিৎসা কার্যক্রমে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
অসুস্থদের দ্রুত ও সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রামটিতে একটি বিশেষ চিকিৎসা শিবিরও স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে তিনটি শিশু বিশেষজ্ঞ দলসহ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পুরো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। একই সঙ্গে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নজরদারি নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওষুধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিকিৎসাধীন রোগীদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ক্লোরোকুইন সেবনের পর ঠিক কী কারণে এই অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, তদন্ত শেষ হলে সে বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
