BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

গেরুয়া গুন্ডামি’ শিরোনাম ঘিরে আনন্দবাজার কার্যালয়ে বিক্ষোভ, ফটকে গেরুয়া রং!

‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহার করে সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে কলকাতায় আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল গেরুয়া বসনধারী। মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে পত্রিকাটির কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে তারা স্লোগান দেন। এ সময় ভবনের মূল ফটকে গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সামনের দেয়ালে গেরুয়া রং লেপে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ২০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের পর এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আনন্দবাজার পত্রিকা। ওই প্রতিবেদনের শিরোনামে ‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনটিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গেটের ঐতিহ্যবাহী প্রতীক ভাঙচুরের ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছিল।

সংবাদটি প্রকাশের পরই বিজেপি ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, ‘গেরুয়া’ শব্দের সঙ্গে ‘গুন্ডামি’ শব্দটি যুক্ত করে একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে।

এরই মধ্যে আনন্দবাজার পত্রিকার সম্পাদক ইশানী দত্ত রায়, সোমা মুখোপাধ্যায়সহ কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বউবাজার থানায় এফআইআর দায়ের করে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন। সংবাদে ব্যবহৃত শব্দচয়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। গত শুক্রবার একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ‘গেরুয়া তাণ্ডব’ শিরোনাম প্রত্যাহারের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘গেরুয়া শব্দকে কালিমালিপ্ত করতে দেব না।’ একই সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পরই বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণমাধ্যম ওই শব্দ ব্যবহারের জন্য ক্ষমা না চাইলে সনাতনী ও গেরুয়া বসনধারীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করবেন। মঙ্গলবারের বিক্ষোভকে সেই ঘোষণারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতার প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিটে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রধান কার্যালয়ের সামনে একটি নির্দিষ্ট সনাতনী সংগঠনের ব্যানারে বেশ কিছু মানুষ জড়ো হন। তাদের অনেকের পরনে ছিল গেরুয়া পোশাক। তারা ‘জয় শ্রীরাম’ এবং ‘আনন্দবাজার ধিক ধিক ধিক্কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গেরুয়া পাগড়ি পরা কয়েকজন বিক্ষোভকারী আনন্দবাজারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করছেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের মধ্য থেকে একজন ভবনের সামনের দেয়ালে গেরুয়া রং লেপে দেন। মূল ফটকেও গেরুয়া উত্তরীয় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

বিক্ষোভের সময় একজন অংশগ্রহণকারী আনন্দবাজারের কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দেন। তাকে বলতে শোনা যায়, পশ্চিমবঙ্গ শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী ও স্বামী বিবেকানন্দের মাটি এবং এই মাটিতে গেরুয়া নিয়ে ‘কুমন্তব্য’ করা বরদাস্ত করা হবে না।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তাদের ভূমিকা ছিল নিষ্ক্রিয়। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‘গেরুয়া গুন্ডামি’ শব্দ ব্যবহার নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আনন্দবাজার পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে শব্দচয়ন, ধর্মীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

তবে বিক্ষোভ, দেয়ালে গেরুয়া রং এবং ফটকে উত্তরীয় ঝোলানোর বিষয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, এবিপি আনন্দ

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -