BMBF News
প্রিমিয়াম ওয়েব হোস্টিং + ফ্রি ডোমেইন
সাথে পাচ্ছেন ফ্রি SSL এবং আনলিমিটেড ব্যান্ডউইথ!
অফারটি নিন »

মসজিদুল হারামে শেষ আজান, মারা গেলেন মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম!

মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে জীবনের শেষ আজান দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন বিশিষ্ট মুয়াজ্জিন শেখ ইব্রাহিম বিন আদেল আল-মাদানি। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ফজরের প্রথম আজান দেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর আজান ও তাকবিরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে এবং মুসল্লি ও অনুসারীরা শোক প্রকাশ করেন।

সোমবার ভোরে মসজিদুল হারামে ফজরের প্রথম আজান দেওয়াটিই ছিল শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির শেষ আজান। তাঁর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া সেই আজানের ভিডিও ‘ইনসাইড দ্য হারামাইন’ প্রকাশ করে। ভিডিওটি প্রকাশের পর অনেকেই তাঁর কণ্ঠের শেষ আজান স্মরণ করে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান।

শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি ছিলেন মসজিদুল হারামের ২৪ জন প্রধান মুয়াজ্জিনের একজন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন ছয়জন পালাক্রমে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও ফজরের প্রথম আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। ফজরের আজানের পাশাপাশি তিনি ইমামের তাকবির মুসল্লিদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও পালন করতেন। বিশেষ করে ফজরের আজান ও তাঁর তাকবিরের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।

১৯৭৬ সালে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানি। ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর ওপর কোরআনের হাফেজ দাদার গভীর প্রভাব ছিল। পরবর্তী সময়ে তিনি কোরআন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে মদিনার একটি স্থানীয় মসজিদে আজান দেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর মুয়াজ্জিন হিসেবে পথচলা শুরু হয়। কলেজের পড়াশোনা শেষ করা পর্যন্ত তিনি কয়েকজন প্রতিবেশী মুয়াজ্জিনের সঙ্গে পালাক্রমে আজান দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। পরে মদিনার বাইরে শিক্ষকতার দায়িত্ব নেওয়ায় কিছু সময় আজান দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।

২০০৭-০৮ সালের দিকে তিনি আবার মদিনার মসজিদ আল-মাদ্দাহতে আজান দেওয়ার দায়িত্ব নেন। এরপর মক্কার মসজিদুল হারামে মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান। ২০১৭-১৮ সালের দিকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদুল হারামের মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মদিনায় বেড়ে ওঠার কারণে তাঁর আজানের ধরনে মদিনার ঐতিহ্যবাহী রীতির প্রভাব ছিল। পাশাপাশি বাবার সঙ্গে মক্কা সফরের সময় মসজিদুল হারামের সাবেক মুয়াজ্জিন শেখ আবদুল লতিফ মুল্লার কাছ থেকেও তিনি মক্কার স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ আজানের রীতির সঙ্গে পরিচিত হন। ফলে তাঁর আজানে মদিনা ও মক্কার দুই ঐতিহ্যের প্রভাব দেখা যেত।

মসজিদুল হারামে তাঁর প্রথম আজান দেওয়ার অভিজ্ঞতাও ছিল আবেগঘন। এক পুরোনো সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফরত মুসল্লিদের সামনে নিজের কণ্ঠে আজান শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন। সেই সাক্ষাৎকারের অংশও তাঁর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে।

সৌদি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আসরের নামাজের পর মসজিদুল হারামেই শেখ ইব্রাহিম আল-মাদানির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে মক্কার আল-মুয়াল্লা কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

মসজিদুল হারামে দীর্ঘদিন আজানের দায়িত্ব পালন করা এই মুয়াজ্জিনের শেষ আজান এখন তাঁর জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে রইল। ফজরের সেই শেষ আজানের ভিডিও ও অডিও ইতোমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে, যেখানে তাঁর কণ্ঠ স্মরণ করছেন মুসল্লি ও আজানপ্রেমীরা।

ওয়েব হোস্টিং কিনুন
৭৫% পর্যন্ত ছাড়ে!
  • ফ্রি ডোমেইন ও ইমেইল
  • আনলিমিটেড ফ্রি SSL
  • ৩০ দিনের মানি-ব্যাক গ্যারান্টি
অফারটি দেখুন »

- Advertisement -