কামাল হোসেন বিশেষ প্রতিনিধি :
দুমকি উপজেলায় আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় এসএসসি দাখিল পরীক্ষায় পাশের হার শতকরা ৭৬.৬৬,জিপিএ -৫ পেয়েছে ৩শিক্ষার্থী। পাঙ্গাশিয়া নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অংশগ্রহনকারী সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবছরই প্রথম এমন ভালো ফলাফল করায় খুশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সহ এলাকাবাসী।
মাদ্রাসা সূত্র জানায় মোট নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিলো ৩০ জন। মোট কৃতকার্য হয়েছে ২৩জন যার মধ্যে ৩জন জিপিএ -৫ পেয়েছে।
জিপিএ -৫ প্রাপ্তরা হলেন আঠারোগাছিয়া গ্রামের মোঃ মুজিবুর রহমান শিকদারের মেয়ে মনিরা আক্তার, আনোয়ার হোসেন শিকদারের মেয়ে মোসা: জান্নাতুল ফেরদৌসি ও কার্তিকপাশা গ্রামের জিয়াউর রহমান মৃর্ধার মেয়ে জীম আক্তার।
মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট মাওলানা আবু সালেহ আল্লাহর নিকট শুকরিয়া আদায় করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টার ফসল। তিনি আরো বলেন এই চেষ্টাকে জাগিয়ে রাখতে স্থানীয়ভাবে উৎসাহ ও অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে আঠারোগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি- এডিএস। মাদ্রাসার পক্ষ থেকে এডিএস কেও ধন্যবাদ জানাই।
মাদ্রসার সহ সুপার মাওলানা মাসুম বিল্লাহ শুকরিয়া আদায় করে বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক শিক্ষক তাদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে, প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি ধরে রাখতে। অভিভাবক সমাবেশ করে সন্তানদের দুর্বলতা ও তা কাটিয়ে উঠতে করণীয় বিষয় আলাপ আলোচনা করছি। তাই শিক্ষক,, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে একটি মেলবন্ধন তৈরী করতে সক্ষম হয়েছি। আর এ মেলবন্ধন তৈরীতে বিগত ৩বছর যাবত আঠারোগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি- এডিএস ভুমিকা রেখেছে। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সকল অংশীজনদেরকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য লেবুখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার সকল শিক্ষক শিক্ষিকা, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।
আঠারোগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি- এডিএস এর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ কামাল হোসেন বলেন, আজ সত্যিই আঠারোগাছিয়াবাসী গর্বিত। আমি ৩বছর আগে আঠারোগাছিয়া গ্রামের স্কুল মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে বিত্তবানদের সহায়তা নিয়ে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। অনেক নিন্দুকের নিন্দাও সহ্য করে চলছি। কিছুদিন আগে প্রকাশিত প্রাথমিক পর্যায়ে বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফলে আঠারোগাছিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৪শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। আজ আঠারোগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় পাশের হার শতকরা ৭৬.৬৬ তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ -৫ পেয়েছে। আঠারোগাছিয়া বাসী সকলকে সাথে নিয়ে আমরা আগামী ৫বছরে গ্রামের প্রতিটি ছেলে মেয়েকে পড়াশোনায় ধরে রাখা, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া যাতে এ সকল শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশের নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়াশোনা করতে পারে তা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আশাকরি সকলের ঐকান্তিক চেষ্টায় আমরা এ সাফল্য ধরে রাখতে সক্ষম হবো।
