ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে নেওয়ার বদলে দুই কবিরাজের কাছে ঝাড়ফুঁক করাতে সময় নষ্ট হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জান্নাতুল খাতুন (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার পার-শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জান্নাতুল ওই গ্রামের টনি হোসেনের মেয়ে। সে চাচড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের বারান্দায় পড়তে বসেছিল জান্নাতুল। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘর থেকে একটি খাতা আনতে গেলে ডান পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে সাপে কামড় দেয়। পায়ে সাপের কামড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে তাকে গ্রামের এক নারী কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক করানোর পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে অন্য এক কবিরাজের কাছে নেওয়া হয়।

সেখানেও অবস্থার আরও অবনতি হলে দ্রুত তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে জান্নাতুল নামের সাপে কাটা এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, বিষধর সাপের কামড়েই ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাকে কবিরাজের কাছে না নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া গেলে হয়তো তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।
