ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের জন্য তিনি কখনোই ক্ষমা চাইবেন না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের কারণে আমেরিকানদের ওপর যে আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিকেও তিনি খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তিনি ‘সঠিক কাজটিই’ করেছেন।
শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের হাতে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র না থাকাটা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে জ্বালানির জন্য আমেরিকানদের কিছুটা বেশি অর্থ ব্যয় করতেও হতে পারে। তাঁর মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ঠেকানোর বিষয়টি জ্বালানির দামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হরমুজ প্রণালী নিয়েও নতুন করে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানকে পরাজিত করার কাজ শেষ হলে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।
তবে তেহরান ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু কোনো টুইট, বিমানবাহী রণতরী, নির্বাহী আদেশ কিংবা নির্বাচনী প্রচারণার ভাষণের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী দখল করা সম্ভব নয়।
একটি সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল এক-পঞ্চমাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো নিরাপদ রুট বা পথ নেই বলেও জানানো হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করা হলে সেখানে দীর্ঘ সময়ের জন্য মার্কিন সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের ব্যয় তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ ট্রাম্প এর আগে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ সংক্ষিপ্ত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রাম্প যখন বলছেন যে তিনি ‘সঠিক কাজটিই করেছেন’, তখন তাঁর প্রশাসনের অন্য কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি কিছুটা ভিন্ন সুরে কথা বলেছেন।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, জ্বালানির দাম কম রাখা এবং ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা—দুটি বিষয়ই প্রেসিডেন্টের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকানদের জন্য তেল ও গ্যাসের দাম ‘সাশ্রয়ী’ রাখাই সরকারের এক নম্বর লক্ষ্য। তাঁর মতে, পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইরানকে প্রতিরোধ করা সরকারের দ্বিতীয় লক্ষ্য।
এদিকে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন স্ট্রাইক গ্রুপের নৌ-কর্মীদের কল্যাণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে জাহাজটিতে কর্মরত একজন নাবিক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত বসন্তে জাহাজ থেকে দ্বিতীয় একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে গিয়েছিলেন।
এর আগে সিএনএন জানিয়েছিল, আগস্টের শুরুর দিকে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার কারণে এক নাবিক লিংকন থেকে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন।
জাহাজে থাকা নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে সেখানে কর্মপরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এই উদ্বেগের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, জাহাজটির দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন আসলে ‘যথেষ্ট দীর্ঘ ছিল না’।
