ইসরায়েলের হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক অভিযানেও ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে না পেরে এখন ওয়াশিংটন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ বেছে নিয়েছে। একই সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন নীতির সমালোচনা করে আরাগচি লিখেছেন, ‘৪৭ বছর ধরে নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী সমাধান হলো আরও নিষেধাজ্ঞা।’
ওয়াশিংটনের এ নীতিকে ‘বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়ে আরাগচি দাবি করেন, এর ফলে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, এ কারণে ইরানের উপকূল থেকে ৫০০ মাইলেরও বেশি দূরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও বিমানবাহী রণতরি সরিয়ে নিতে হয়েছে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে হামলা চালানোর দাবি করেছে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর পর এর জবাবে আইআরজিসির নৌবাহিনী এসব হামলা চালায়।
আইআরজিসির দাবি, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন দুই ডেস্ট্রয়ার—ইউএসএস ডেলবার্ট ডি. ব্ল্যাক (ডিডিজি-১১৯) ও ইউএসএস জন পল জোন্স (ডিডিজি-৫৩)—কে লক্ষ্যবস্তু করে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, মার্কিন বাহিনীর ‘আগ্রাসন ও শত্রুতার’ জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির একটি নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করা আরও ১০টি নিয়ম লঙ্ঘনকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার দাবিও করেছে আইআরজিসি। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও সহযোগিতায় এসব জাহাজ ওই এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করছিল।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি এখনো তাদের শক্তিশালী নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত এক সপ্তাহে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে সর্বশেষ ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।
