গাজা সংকটের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং কেবল ফিলিস্তিনিদের গাজা ছাড়ার সুযোগ দিতে ‘একমুখী’ভাবে খোলার ইসরায়েলি পরিকল্পনা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে মিসর ও কাতারসহ আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। তাদের মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করবে এবং ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার আশঙ্কা তৈরি করবে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে মিসর, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (সিওজিএটি) যে ঘোষণা দিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপেরই লঙ্ঘন।
দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে রাফাহ ক্রসিং দ্বিমুখীভাবে (চলাচল ও সহায়তা প্রবেশের জন্য) খোলার দাবি জানিয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়, যেখানে গাজায় একটি প্রযুক্তিবিদনির্ভর (টেকনোক্র্যাট) ফিলিস্তিনি সরকার গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন ও চলমান হামলা
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গত সাত সপ্তাহে ইসরায়েল অন্তত ৬০০ বার তা লঙ্ঘন করেছে। শনিবার ভোরে বেইত লাহিয়ায় ড্রোন হামলায় দুই ফিলিস্তিনি নিহত হন। তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিজেদের খামার পরিদর্শনে গিয়েছিলেন।
এছাড়া গাজা সিটির পূর্বাঞ্চল, মাঘাজি শরণার্থী শিবির এবং রাফাহসহ বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২০টি বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। খান ইউনুস ও রাফাহর পূর্বাঞ্চলে ট্যাংক ও আর্টিলারি হামলার পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলে ফিলিস্তিনি জেলেদের নৌকাতেও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি নৌবাহিনী। বর্তমানে গাজার দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশসহ মোট এলাকার অর্ধেকেরও বেশি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
নেতাদের বক্তব্য
দোহা ফোরামে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি এখনো পূর্ণাঙ্গ নয়। ইসরায়েলি সেনারা সম্পূর্ণভাবে গাজা থেকে প্রত্যাহার করলে এবং স্থিতিশীলতা ফিরে এলেই কেবল যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হবে।’
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, গাজায় ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী’ (আইএসএফ) পাঠানোর বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। এই বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হবে সীমান্তে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের আলাদা রাখা।
মানবিক বিপর্যয়
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ হাজার ১২৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজারের বেশি মানুষ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাফাহ ক্রসিং বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকায় গাজায় মানবিক পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসা ও খাদ্যসহ জরুরি সহায়তা প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।